কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর স্থানীয় সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড তৈরির সময় মূল দাগটি তিনটি পৃথক দাগে বিভক্ত হয়। তাঁদের দাবি, কবরস্থানের জমি ও মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে কবরস্থানের জমির সঙ্গে তাঁদের মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাঁদের অভিযোগ, রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রতিপক্ষ জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাঁদের দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর করা হয় এবং সেখান থেকে মালামাল লুট করা হয়।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, তাঁদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন। তবে বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে দোকানপাট ভাঙচুর ও মালামাল লুটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থান করায় তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |