ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ও এর সাফল্য এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মৌখিক আশ্বাস বা কথার চেয়ে তাদের বাস্তবমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও নীতি পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন ইসমাইল বাঘাই।
‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিগত দিনের কূটনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, গত দুই বছরে মার্কিন প্রশাসন কোনো ফলপ্রসূ অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করে সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও বাধা তৈরি করেছে।
বাঘাই বলেন, “বর্তমানে বল সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের পক্ষ থেকে সব দাবি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অত্যন্ত স্পষ্ট, যৌক্তিক ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে যে তারা সমঝোতার পথ বেছে নেবে নাকি বাধা সৃষ্টি করবে।”
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি শর্ত
ইরানি মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এবং তেহরানের ন্যায্য আন্তর্জাতিক দাবিগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এবং ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দিনে বাস্তবায়নে সংক্ষেপিত ৭ দফা প্রস্তাবঅঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইরানের পূর্বঘোষিত ‘সাত দফা শান্তি পরিকল্পনা’ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার টেবিলে সক্রিয় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাঘাই। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনার জন্য এই পরিকল্পনাকে আরও সংক্ষেপিত ও যৌক্তিক করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলে এই সংক্ষেপিত রূপরেখা মাত্র দুই দিনের (৪৮ ঘণ্টা) মধ্যেই বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব। এটি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তেহরানের চরম সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ উঠে গেলে এবং ইরানের মৌলিক দাবিগুলো মানা হলে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ব্যস্ততম পথ হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চূড়ান্ত শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে। তবে এর চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কোন পথে এগোবে তার ওপর।