ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ ৫ দফা দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ: যান চলাচল বন্ধ
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সর্বস্তরে শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেট্রো গার্মেন্টস, লিবার্টিসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক একজোটে রাজপথে নেমে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। শ্রমিকদের আকস্মিক সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে ব্যস্ততম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।
সরেজমিন চিত্র ও যাত্রী ভোগান্তি
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিবু মার্কেট এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর শক্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করছেন কারখানাগুলোর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে কাঠ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
সড়ক অবরোধের ফলে উভয় পাশে অসংখ্য গণপরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পর গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অগণিত যাত্রীকে বাস ও গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়। অনেকেই বিকল্প ছোট সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিবু মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি
আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের উপস্থাপিত প্রধান ৫টি দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. পোশাকশ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা ও কার্যকর করা।
২. সব তৈরি পোশাক কারখানায় কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরকারি 'রেশনিং ব্যবস্থা' চালু করা।
৩. কারখানাগুলোতে অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত ও বাস্তবায়ন করা।
৪. শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকালে নিহত সব শ্রমিক হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তে শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা।
৫. বিনা কারণে কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লিবার্টি গার্মেন্টসের শ্রমিক সোহেল মিয়া জানান, বাজারদর অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা ছাড়া পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব; তাই সব দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আরেক নারী শ্রমিক আনোয়ার বেগম জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানাগুলোর ভেতর থেকেই মজুরি বৃদ্ধির স্লোগান শুরু হয় এবং পরবর্তীতে পৌনে ১২টার দিকে সব শ্রমিক কাজ ফেলে একযোগে রাজপথে নেমে শিবু মার্কেট এলাকা অবরোধ করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আদমজীতে অবস্থিত শিল্প পুলিশ-৪-এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) আনোয়ারুল হক পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকেরা শিবু মার্কেট মোড়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন। শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।