| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জরুরি বৈঠক: ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-04-2025 ইং
  • 3762295 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জরুরি বৈঠক: ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জরুরি বৈঠক: ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জরুরি বৈঠক: ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপরও শুল্কের হার বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে, যা পূর্বে ছিল ১৫ শতাংশ। এই নতুন শুল্ক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে শুল্কের প্রভাব এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে গত শনিবার (৫ এপ্রিল) জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ (উচ্চ প্রতিনিধি) খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

বৈঠক শুরুর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, "শনিবার দুপুরে বৈদেশিক বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করেছে এবং তাদের সুপারিশ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।"

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি: বাংলাদেশের পণ্যে প্রভাব

গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি বাংলাদেশের রফতানি খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য, তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর।

বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের বড় অংশ থাকে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশির বাণিজ্যিক সম্পর্ক একটি বড় অর্থনৈতিক সংযোগ।

অন্যান্য দেশগুলোর ওপর শুল্কের হার

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির আওতায় বাংলাদেশ ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ভারতকে ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানকে ২৯ শতাংশ, চীনকে ৩৪ শতাংশ, কম্বোডিয়াকে ৪৯ শতাংশ, ভিয়েতনামকে ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কাকে ৪৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডকে ৩৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়াকে ২৫ শতাংশ, জাপানকে ২৪ শতাংশ এবং মালয়েশিয়াকে ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে, চীন ও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। চীন ৩৪ শতাংশ এবং কানাডা ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রভাব

এ নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের রফতানি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ যোগান দেয়, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রফতানি গন্তব্য। তবে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যেমন বিকল্প বাজারে প্রবেশ, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে রফতানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।

বাংলাদেশের করণীয়

এই শুল্ক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে নতুন শুল্ক ব্যবস্থা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরি করা, এবং বিকল্প বাজারে পণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করা।

এছাড়া, দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন গাইডলাইন প্রকাশ এবং সহায়তা প্রদান করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সুরক্ষা কার্যক্রমও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এ সংকট মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, যেন এটি শুল্ক বৃদ্ধির বিরোধিতা করতে পারে এবং দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হলেও, বাংলাদেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে, দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency