| বঙ্গাব্দ

বাসায় ঢুকে দম্পতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-10-2026 ইং
  • 51824 বার পঠিত
বাসায় ঢুকে দম্পতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ
ছবির ক্যাপশন: কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

গাজীপুরের গাছায় পৈতৃক ভিটায় গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দম্পতির ওপর হামলা: থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় গভীর রাতে পৈতৃক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এক দম্পতির বাসায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্বরোচিত এই হামলায় চাপাতির কোপে ফুয়াদ আলম ওরফে ফাহিম (২৭) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বাঁচাতে গেলে তার স্ত্রী নওরীন মহসীনের (২১) চোখেও মারাত্মক আঘাত লাগে। শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীরা ঘরের নগদ টাকা ও একাধিক মুঠোফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও থানায় মামলা করতে গিয়ে চরম পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই দম্পতি।

গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কুনা এলাকার একটি চারতলা পৈতৃক বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এর পর গত মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে সশরীরের হাজির হয়ে হামলা, মালামাল লুট এবং গাছা থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ না করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ফুয়াদ ও নওরীন দম্পতি।

পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সংবাদমাধ্যমে ভুক্তভোগী ফুয়াদ আলম অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত করে জোরপূর্বক ভিটাছাড়া করার হীন উদ্দেশ্যে তার নিজের বোন বাইরে থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল এনে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত বোনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফুয়াদ জানান, কুনা এলাকায় সাড়ে আট কাঠা জমির ওপর তাদের একটি চারতলা পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি ও তার মা যৌথভাবে বাড়ির নিচতলায় পারিবারিক চালের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কিন্তু ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তাকে ওই ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়। এরপর থেকেই পৈতৃক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে তার দাবি।

বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে ঘরের ভেতর তাণ্ডব ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফুয়াদ বলেন, ঘটনার রাতে অতর্কিতভাবে হামলাকারীরা প্রথমে সম্পূর্ণ বাড়ির মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর লাঠিসোঁটা ও ধারালো চাপাতি নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে তার স্ত্রী নওরীন এগিয়ে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এতে নরদীনের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও দামি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।

স্ত্রী নওরীন মহসীন জানান, হামলাকারীরা ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি দ্রুত ‘৯৯৯’-এ কল করে জরুরি পুলিশি সহায়তা চান। পরবর্তীতে গাছা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাদের এবং তাদের শিশুদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দ্রুত বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার চরম ধমক দিয়ে যায়।

হাসপাতাল থেকে থানায় আটক ও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ উল্টো ফুয়াদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্ত্রী নওরীন থানায় গিয়ে স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও পুলিশ কর্ণপাত করেনি। পরবর্তীতে নওরীন তার অপর মুঠোফোনে ধারণ করা সেই রাতের হামলার মূল ভিডিও ফুটেজ পুলিশকে দেখালে পুলিশ ফুয়াদকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণ দেওয়ার পরও গাছা থানায় তাদের কোনো মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

প্রাণনাশের চরম হুমকির মুখে বর্তমানে পুরো পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, “আমরা এখন বাড়ি ছেড়ে বাইরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।” ঘটনার পর গাছা থানায় গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণকৃত ফুটেজ দেখিয়েও মামলা করতে ব্যর্থ হন তারা।

পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলা চালিয়ে জখম করার মতো কোনো দৃশ্য বা সত্যতা পায়নি। মূলত এ কারণেই তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নেওয়া হয়নি।

ওসি আরও জানান, পৈতৃক সম্পত্তি ও ব্যবসা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। এই পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এর আগেও তাদের মধ্যে গাছা থানায় ও আদালতে পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তবে ফুয়াদের পাল্টা দাবি, অতীতেও তাদের ওপর বেশ কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে এবং মায়ের মৃত্যুর পর তার মূল্যবান গহনা, জমানো টাকা ও অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে বারবার মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency