প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম কোনোভাবেই ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আগামী ২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত সকল পাঠ্যবই চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদই দেশের সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীর হাতে নিরাপদে ও যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বইয়ের কাগজ ও মুদ্রণের গুণগত মানের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কোনো আপস করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমকালো বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির মূল্যবান বক্তব্য প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান।
বইয়ের মান ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, “বই বিতরণ কার্যক্রম ২৭ সাল পর্যন্ত যাবে না, ইনশাআল্লাহ ২০২৬ সালের মধ্যেই তা শতভাগ সম্পন্ন হয়ে যাবে। বইয়ের কোয়ালিটি বা গুণগত মানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ বা ছাড় দেব না। আমাদের দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যন্ত সুন্দর, মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই আমরা পৌঁছে দেব।”
নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে নতুন বই সংযোজনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে মোট চারটি নতুন বই প্রণয়ন ও সংযোজন করা হয়েছে।
এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ‘সংস্কৃতি ও খেলাধুলা’ নামের বইটি। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সংযোজন করা হয়েছে দুটি নতুন ও চমৎকার পাঠ্যবই—‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিক্ষা) এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। এ ছাড়াও বড় বড় জেলা শহরগুলোর জটিল ট্রাফিক ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রাথমিক ধারণা ও সচেতনতা গড়ে তুলতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে একটি বিশেষ ঐচ্ছিক বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এর আগে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও আদর্শের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর আজীবন সংগ্রাম, ত্যাগের রাজনীতি এবং আপসহীন জীবনদর্শন থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরাও তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন—মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |