| বঙ্গাব্দ

৮৫ জনকে আটকের সেই অভিযানে এক বোতল মদ, একটি খালি ও দুটি আংশিক খালি বোতল উদ্ধার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-10-2026 ইং
  • 5704 বার পঠিত
৮৫ জনকে আটকের সেই অভিযানে এক বোতল মদ, একটি খালি ও দুটি আংশিক খালি বোতল উদ্ধার
ছবির ক্যাপশন: অভিযানে এক বোতল মদ, একটি খালি ও দুটি আংশিক খালি বোতল উদ্ধার

ভাটারা ডিআইজির বাসায় ডিবির গভীর রাতের অভিযান, ৮৫ জন গ্রেপ্তার হলেও উদ্ধার সামান্য মাদক

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে গভীর রাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরেই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

জব্দ তালিকায় রয়েছে চারটি মদের বোতল, একটি ইয়াবা বড়ি ও সামান্য পরিমাণ গাঁজা। ঘটনার পর ডিআইজি জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যত তাকে ওএসডি অবস্থায় নিয়ে গেছে।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে। ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীর।

ডিবি সূত্রে দাবি করা হয়, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। কিন্তু জব্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিন ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। তালিকায় রয়েছে দেশীয় কোম্পানি কেরুর ৭৫০ মিলিলিটারের একটি খালি হুইস্কির বোতল, ভারতীয় রয়্যাল স্ট্যাগের এক লিটারের একটি বোতল যাতে আনুমানিক ৫০০ মিলিলিটার মদ অবশিষ্ট ছিল, স্মিরনফ ভদকার এক লিটারের একটি বোতল যাতে প্রায় ২০০ মিলিলিটার ছিল এবং ভারতীয় একটি কোম্পানির হুইস্কির এক লিটারের আরেকটি বোতল। এ ছাড়া একটি মাত্র ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও একচিলতে পরিমাণ গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবিরই একাধিক কর্মকর্তা এই উদ্ধার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ৮৫ জনকে গ্রেপ্তারের মতো বড় অভিযানের পর মাদকের এই সামান্য পরিমাণ উদ্ধার অস্বাভাবিক এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলার অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই সমালোচনার জবাবে ডিসি ইলিয়াস কবীর বলেন, ওই বাড়িতে পার্টি আয়োজনের বিষয়ে আগে তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার দাবি, অভিযানের আগেই আটক ব্যক্তিরা মদ ও ইয়াবা সেবন শেষ করে ফেলেছিলেন, তাই অবশিষ্ট যা পাওয়া গেছে, কেবল সেটুকুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে। নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাভোগ। পুরুষদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সাল থেকে ডিআইজি জহিরের ছয় কক্ষের ওই বাড়িতে নিয়মিত পার্টি আয়োজন করা হতো। পাঁচটি কক্ষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'এয়ারবিএনবি' ও 'ট্রাভেলা'র মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো এবং বাকি একটি কক্ষে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক থাকতেন। দৈনিক ১৮ হাজার ৫০০ টাকায় পুরো বাড়ি ভাড়া দেওয়া হতো। পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি আয়োজন করা হতো এবং লাভের ৭০ শতাংশ পেতেন আবদুল্লাহ আল জহির, বাকি ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি।

অভিযানের পর ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখা থেকে সরিয়ে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency