শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট জমা, চূড়ান্ত প্রতিবেদন শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই মাসের গণহত্যা মামলার তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বুধবার (২ এপ্রিল) যমুনা টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে বহু প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা একাধিক মাধ্যমে—কখনো সরাসরি, কখনো টেলিফোনের মাধ্যমে, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম আরও জানান, তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্টভাবে শেখ হাসিনার সুপেরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির কথা উঠে এসেছে, যা আইনের ভাষায় গণহত্যার জন্য তার দায়বদ্ধতাকে প্রমাণ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণহত্যা চালানো হয়েছিল এবং এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে। তদন্তের এই খসড়া প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে এবং এখন পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এছাড়া, গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এই পরোয়ানা জারির পেছনে কারণ ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করার চেষ্টা এবং গণহত্যার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগে একাধিক বার অভিযোগ তুলেছিল যে, এই গণহত্যায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা জড়িত ছিলেন।
জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনার কারণে এ মামলার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সেসময় সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়েছিল, যাতে অনেক ছাত্র নেতাকে হত্যা ও গুরুতরভাবে আহত করা হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা বাড়ে এবং তদন্ত শুরু হয়।
প্রথম পর্যায়ের তদন্তে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে চেপে ধরার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়। সেসময় ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনা ঘোলাটে এবং অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করে, যা পরে গণহত্যার মামলায় পরিণত হয়।
এখন পর্যন্ত তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে, এবং তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে, যেখানে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মামলায় আদালতের রায় দেশের রাজনীতিতে আরও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারকার্য শুরু হতে পারে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে তার দল আওয়ামী লীগ এখনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এবং তাদের দাবী—এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |