| বঙ্গাব্দ

ককরোচ জনতা পার্টি: এক্সে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টপকে রেকর্ড সিজেপির

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-05-2026 ইং
  • 1368 বার পঠিত
ককরোচ জনতা পার্টি: এক্সে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টপকে রেকর্ড সিজেপির
ছবির ক্যাপশন: ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টপকে সিজেপির ঐতিহাসিক রেকর্ড

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬: ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ঝড় তোলা নব্য ডিজিটাল রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ($Cockroach\ Janta\ Party\ - \ CJP$) বা সিজেপির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে সিজেপির হ্যান্ডেলটি (@CJP_2029) ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘উইথহেল্ড’ বা অবরুদ্ধ দেখায়। প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোস্টন ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশনসের স্নাতক অভিজিৎ দীপক (Abhijeet Dipke) স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত সরকারের আইনি দাবির প্রেক্ষিতেই এক্স এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে এক্স অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা আসলেও সিজেপির জয়রথ থামানো যায়নি। মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে মাত্র ৫ দিনে ১ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে ($BJP$) ফলোয়ার সংখ্যায় পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ব্যঙ্গাত্মক দলটি।

১. নেপথ্য কাহিনী: প্রধান বিচারপতির ‘তেলাপোকা’ মন্তব্য ও সিজেপির জন্ম

গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) মন্তব্য করেছিলেন যে, কিছু কর্মসংস্থানহীন তরুণ এবং ভুয়া ডিগ্রিধারীরা ‘তেলাপোকা’ বা পরজীবীর মতো সিস্টেমে ঢুকে সবাইকে আক্রমণ করছে। এই মন্তব্যটি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র যুব ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরদিন ১৬ মে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক ভারতের বেকার, অলস এবং 'ক্রনিক্যালি অনলাইন' তরুণদের কণ্ঠস্বর হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গড়ে তোলেন। যদিও প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্টীকরণ দিয়ে জানান যে, তাঁর মন্তব্যটি দেশের সাধারণ বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং আইনি পেশায় জাল ডিগ্রি নিয়ে প্রবেশকারীদের বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে সিজেপি ভারতের তরুণদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হতাশার এক প্রতীকী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

২. এক্সে নিষেধাজ্ঞা ও ইনস্টাগ্রামে রেকর্ড ব্রেকিং ফলোয়ার

এক্সে সিজেপির প্রায় ২ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকা অবস্থায় অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়। তবে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: সিজেপির বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৪ লাখের (১৩.৪ মিলিয়ন) বেশি।

  • বিজেপিকে টপকে শীর্ষস্থান: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-র অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা যেখানে ৮.৮ মিলিয়ন, সেখানে সিজেপি মাত্র ৫ দিনে ১০ মিলিয়ন পার করে বিজেপিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

  • সদস্য নিবন্ধন: সিজেপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (cockroachjantaparty.org) ইতিমধ্যে ৬ লাখের বেশি ভারতীয় নাগরিক প্রতীকীভাবে ‘দলে যোগ’ দিতে নিবন্ধন করেছেন।

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) বনাম ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): ডিজিটাল মেট্রিিক্স

ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-কে ছাপিয়ে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) ডিজিটাল মাধ্যমে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি মাত্র ৪ দিনের মাথায় ইনস্টাগ্রামে ১০ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার অর্জন করে। 
প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী ডিজিটাল ম্যাট্রিক্স:
মেট্রিক (Metric) ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)
ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার১৩ মিলিয়নেরও বেশি৮.৭ থেকে ৮.৮ মিলিয়ন
ইনস্টাগ্রাম পোস্টমাত্র ৫৬টি১৮,০০০-এর বেশি
এক্স (X / Twitter) ফলোয়ার১৮০,০০০+ (প্রাথমিক অ্যাকাউন্টটি ভারতে ব্লক বা উইথহোল্ড করা হয়েছে)২৩ মিলিয়ন
ডিজিটাল মোমেন্টাম'জেন জি' এবং বেকার তরুণদের মধ্যে দ্রুত ভাইরালদীর্ঘমেয়াদী সুসংগঠিত আইটি সেল
অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য:
  • উদ্ভব: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' এবং 'পরজীবী' বলে আখ্যা দিয়েছেন— এমন বিতর্কিত খবরের প্রতিবাদে অভিজিৎ দীপকে নামক এক রাজনৈতিক যোগাযোগ strategist এর মাধ্যমে এই আন্দোলনটি শুরু হয়।
  • দলের চরিত্র: এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয় বরং ইন্টারনেট ট্রল, মিম ও ব্যঙ্গাত্মক ইশতেহারের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। 
বিস্তারিত খবরাখবরের জন্য আপনি বিবিসি বাংলা অথবা ডয়চে ভেলে (DW) এর মতো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো পড়তে পারেন।
৩. সিজেপির ৫ দফা ইশতেহার: হাসির ছলে গভীর দাবি

নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ দাবি করলেও সিজেপির ইশতেহারে ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার কিছু গুরুতর সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে, যা দেশের সচেতন মহল ও বিরোধী দলীয় এমপিদের (যেমন মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ) সমর্থন কুড়িয়েছে। দাবিগুলো হলো:

১. বিচারপতিদের অবসর-পরবর্তী নিয়োগ বন্ধ: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অবসরের পরপরই রাজ্যসভায় বা সরকারি কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

২. নারীদের ৫০% সংরক্ষণ: সংসদের আসন সংখ্যা না বাড়িয়ে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করা।

৩. দলবদলকারী রাজনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: দল পরিবর্তনকারী বা ‘দলছুট’ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের (MLAs/MPs) ওপর ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

৪. ফ্রিবিজের চেয়ে উৎপাদনশীলতা: কেবল সস্তা অনুদান বা ‘ফ্রি খয়রাতি’ না দিয়ে তরুণদের জন্য প্রকৃত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

৫. আরটিআই (RTI) জবাবদিহিতা: রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় আনা এবং কোনো বেনামী নির্বাচনী বন্ড গ্রহণ না করা।

ভবিষ্যৎ রূপরেখা: ডিজিটাল প্রতিরোধ বনাম আইনি কড়াকড়ি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে মোদি সরকারের আমলে যেকোনো ধরনের ভিন্নমত বা সমালোচনাকে যেভাবে দমন করা হয়, তার বিরুদ্ধে ‘জেন-জি’ ($Gen-Z$) বা তরুণ প্রজন্মের এক অনন্য অহিংস ও হাস্যরসাত্মক ডিজিটাল প্রতিরোধ এই ককরোচ জনতা পার্টি। অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেন, “এটি সরকারের একটি সেলফ-গোল (আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত)। তেলাপোকারা সহজে মরে না।” ভারতের আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সিজেপি টিম আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এটি স্পষ্ট যে, ভারতের তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক বেকারত্ব ও যুব সমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি চমৎকারভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

ভারতের রাজনীতি, ককরোচ জনতা পার্টি, এক্স অ্যাকাউন্ট উইথহেল্ড, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক খবরের গভীর ও প্রফেশনাল ইনফরমেশনাল কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিন  ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency