| বঙ্গাব্দ

গায়ের জোরে অন্যের জমি ভোগ-দখল, ইসলামে কী শাস্তি?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-10-2026 ইং
  • 7452 বার পঠিত
গায়ের জোরে অন্যের জমি ভোগ-দখল, ইসলামে কী শাস্তি?
ছবির ক্যাপশন: গায়ের জোরে অন্যের জমি ভোগ-দখল,

গায়ের জোরে অন্যের জমি দখল ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর জুলুম: কঠোর হুঁশিয়ারি শায়খ আহমাদুল্লাহর

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দুনিয়ায় শক্তি, সামর্থ্য কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তির জোর খাটিয়ে অন্যের জমি দখল করে ভোগ করা ইসলামে এক চরম ও গুরুতর অপরাধ। জমির পরিমাণ যত সামান্যই হোক না কেন, প্রকৃত মালিককে বঞ্চিত করে অন্যায়ভাবে তা গ্রাসকারীদের ব্যাপারে কঠিন ও ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলামের স্পষ্ট শিক্ষা অনুযায়ী, দুনিয়াবি ক্ষমতার দাপটে সাময়িকভাবে জমি ভোগ-দখল করে রাখা গেলেও পরকালে আল্লাহর আদালতে এর জন্য ভয়াবহ জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। ভুক্তভোগীর জমি ও ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে না দিয়ে কেবল মুখে তওবা করলে এ জাতীয় গোনাহ ও দায় থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি এক আলোচনায় হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে অন্যের জমি দখলের কঠিন পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।

এক বিঘত জমি দখলেও মিলবে ৭ স্তর জমিনের বেড়ি

অন্যের জমি অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার পরকালীন ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বাণী রয়েছে।

হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমিও দখল করবে, কিয়ামতের দিন সাত স্তর জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬১০)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদগণ জানান, ইসলামে অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনকে চরমভাবে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে। জোর-জবরদস্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো জমি দখলে রাখলে তা কোনো অবস্থাতেই শরিয়তে বৈধতা পায় না।

পবিত্র কুরআনের কড়া নিষেধাজ্ঞা

আল-কুরআনে অন্যায় উপায়ে অপরের সম্পদ ও মালিকানা হরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা আল-বাকারায় নির্দেশ প্রদান করেছেন:

“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।”

(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জমির সীমানা বা মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা গায়ের জোরে সমাধান করা যাবে না। বরং উপযুক্ত দলিল, ভূমির সঠিক কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়সংগতভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

কেবল তওবাই যথেষ্ট নয়: ‘বান্দার হক’ আদায় আবশ্যক

ইসলামে ‘বান্দার হক’ বা মানুষের অধিকার রক্ষা করা অতি জরুরি একটি বিষয়। আল্লাহ তাআলা চাইলে নিজের হক বা গোনাহ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করলে আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করবেন না।

তাই অন্যের জমি দখল সংক্রান্ত অপরাধ থেকে খাঁটি নিষ্পাপ হতে হলে শরিয়তের নির্দেশনা হলো: ১. অভিলম্বে অন্যায় দখল ছেড়ে দিয়ে জমির প্রকৃত মালিকের কাছে সীমানা বুঝিয়ে দিতে হবে।

২. জমি দখলের কারণে মালিকের যে আর্থিক বা ফসলি ক্ষতি হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৩. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে পাওনা চুকানোর পর আল্লাহর দরবারে তওবা করতে হবে।

সামাজিক প্রভাব বা রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে দুনিয়াতে বিচার এড়ানো গেলেও আল্লাহর সুনির্দিষ্ট বিধানে কারো জুলুমই মাফ পাবে না। অন্যের জমি দখল করে যুগের পর যুগ ভোগ করলেও তা কখনো ইসলামি আইনি কাঠামোয় বৈধ মালিকানায় রূপান্তরিত হয় না।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency