নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তাঁর দাবি, নেহার বক্তব্যে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে ভিডিওতে নেহা সরাসরি এমন কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে পিএইচডি শুরু করা ২৯ বছর বয়সি নেহা বোরার একটি তারিখবিহীন সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে নেহাকে বলতে শোনা যায়, ভারতে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলন ভারতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা এবং দেশটির তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।
নেহার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠে আসে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
নেহা বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু হয়েছিল। ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনেও একই ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
নেহা বোরার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক বলয় ভারতে অস্থিরতা তৈরি করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে।
ভান্ডারির দাবি, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়; বরং ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা।
তবে এসব বক্তব্য বিজেপির রাজনৈতিক অভিযোগ। নেহা বোরার ভিডিওতে বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করার সরাসরি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
একই সাক্ষাৎকারে নেহা বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং আরও ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে অংশ নেন নেহা বোরা।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা করে দেখার বিষয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, সব প্রতিবাদই বৃহত্তর প্রতিবাদের অংশ। সংবিধান রক্ষার জন্য যারা আন্দোলন করছেন, তাঁরা যে রাজনৈতিক সংগঠনেরই হোন না কেন, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
রাহুল গান্ধী প্রতিবাদকে ভারতের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
হিন্দি ও ইংরেজিতে জোরালো বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন নেহা বোরা। তাঁর বক্তব্যে সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য ও সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত জুলাইয়ে হওয়া বিক্ষোভের সময় তিনি আলোচনায় আসেন। ওই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তিনি। ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সরকারের ভূমিকা ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে দিল্লির বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় তাঁকে একাধিকবার আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তির পর আবারও প্রতিবাদে যোগ দেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেন, বর্তমান আন্দোলন শুধু কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ওপর নির্ভরশীল নয়; মানুষের মধ্যে আশা তৈরি হওয়াও এর অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, ভয় যেমন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি আশাও মানুষকে সাহসী করে তুলতে পারে।
নেহার ভাষ্য, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: এনডিটিভি
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |