প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
চুইংগাম চিবানোর সময় অসাবধানতাবশত এটি পেটে চলে যাওয়া বা গিলে ফেলা খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এ বিষয়ে মানুষের মনে বছরের পর বছর ধরে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে—অনেকেই মনে করেন, চুইংগাম গিলে ফেললে তা নাকি হজম না হয়ে বছরের পর বছর পেটের ভেতরে থেকে যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। ভুল করে একবার চুইংগাম গিলে ফেললে আতঙ্কিত হওয়ার বিন্দুমাত্র কারণ নেই।
চুইংগামের কিছু কৃত্রিম ও রাবারজাতীয় উপাদান মানুষের শরীর সরাসরি হজম করতে পারে না। ফলে এটি সাধারণ খাবারের মতো পাকস্থলীতে পুরোপুরি ভেঙে যায় না। কিন্তু তাই বলে এটি পেটের ভেতর আটকে থাকে না। শরীরের স্বাভাবিক পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের (Digestive Tract) স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অন্যান্য অপাচ্য বা কঠিন উপাদানের মতোই এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মলের সঙ্গে শরীর থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়।
সাধারণত খাবার হজম হতে যে সময় লাগে, চুইংগামের ক্ষেত্রেও শরীর থেকে বের হতে খুব বেশি সময় নেয় না। তাই ‘চুইংগাম পেটে সাত বছর জমে থাকে’—এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ বা ভুল ধারণা।
একটি কি দুটি চুইংগাম ভুলবশত গিলে ফেললে সাধারণত কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তবে বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন কেউ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একসঙ্গে অনেকগুলো চুইংগাম গিলে ফেলেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একসঙ্গে অতিরিক্ত চুইংগাম পেটে চলে গেলে তা পরিপাকতন্ত্রে বা অন্ত্রে আটকে গিয়ে খাদ্য চলাচলে বাধা (Intestinal Obstruction) সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল, তবুও অতিরিক্ত বা একসঙ্গে একাধিক চুইংগাম গিলে ফেলা সবসময়ই পরিহার করা উচিত।
পাশাপাশি, চুইংগামের সঙ্গে যদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বিষাক্ত বা কোনো ধারালো বস্তু পেটে চলে যায়, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সাধারণত একটি চুইংগাম পেটে চলে গেলে কোনো ধরনের চিকিৎসকের পরামর্শ বা ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে চুইংগাম গিলে ফেলার পর যদি শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
পেটে প্রচণ্ড বা তীব্র ব্যথা অনুভব হলে।
বারবার বমি হওয়া বা বমি ভাব দেখা দিলে।
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বা শক্ত হয়ে গেলে।
তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে।
বিশেষ করে ছোট শিশুরা যদি ভুলবশত একসঙ্গে একাধিক চুইংগাম গিলে ফেলে এবং পরবর্তীতে তাদের পেটে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা জটিলতা দেখা দেয়, তবে বিষয়টি দ্রুত চিকিৎসকের নজরে আনা উচিত।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |