প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও। মশাবাহিত এই রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে চিকিৎসকরা সর্বদাই এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের তালিকার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ শরীরকে পানিশূন্যতা ও মারাত্মক দুর্বলতা থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত মশাবাহিত রোগ। সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শরীরে এর উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
তীব্র জ্বর (তাপমাত্রা ১০২° থেকে ১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে)
প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা
বমি ভাব বা বমি হওয়া
মাংসপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা
কখনো কখনো ত্বকে লালচে র্যাশ বা চাকা চাকা দাগ দেখা দেওয়া
এই সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর প্রাথমিক পর্যায়ে ভারী খাবারের তুলনায় সহজপাচ্য ও তরল খাবার খাওয়া বেশি উপকারী। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার তরল খাবার গ্রহণ করলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং শারীরিক দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে তরল খাবারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারও দিতে হবে। এ সময় শরীরে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি এবং রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই খাবারে প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তার পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় যা থাকা দরকার:
তরল খাবার: পর্যাপ্ত পরিমাণে সাধারণ পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের জুস ও শরবত।
সহজপাচ্য খাবার: পুষ্টিকর চিকেন স্যুপ, বাদাম, পুডিং ইত্যাদি। জ্বরে আক্রান্ত রোগী যেহেতু ভারী খাবার খেতে পারে না, তাই হালকা পুষ্টিকর খাবার একটু পরপর খাওয়া উচিত। খাবারে মুখের রুচি ও স্বাদ ফেরাতে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে সহায়ক খাবার: ব্রোকলি ও পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন ‘কে’, পটাশিয়াম এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা ঠিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
যা বর্জন করবেন: ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার (প্রসেসড ফুড), অতিরিক্ত তৈলাক্ত, মশলাদার ও ভাজা খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, এ সময় শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য মাথায় পানি দেওয়া এবং কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে দেওয়ার মতো সাধারণ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হিসেবে তিনি শরীরে পর্যাপ্ত তরল ও পানির ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছেন।
রোগীর পরিপূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ডা. হাসান হাফিজুর রহমান আরও বলেন, “ভাইরাল ফিভারের মূল ওষুধই হলো বিশ্রাম। কারণ বিশ্রাম আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে রোগের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণ তৎপর হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে খেয়াল রাখবেন বিশ্রামের সময়টুকু যেন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম কিংবা অহেতুক নেট ব্রাউজ করে নষ্ট না করা হয়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী রোগীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |