| বঙ্গাব্দ

গুদামের সামনে ৫৮ ট্রাক সার, মাঠে সারের জন্য হাহাকার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-10-2026 ইং
  • 10123 বার পঠিত
গুদামের সামনে ৫৮ ট্রাক সার, মাঠে সারের জন্য হাহাকার
ছবির ক্যাপশন: গুদামের সামনে ৫৮ ট্রাক সার

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএডিসি গুদামের সামনে ৫৮ ট্রাক সার আটকা: মাঠে চরম সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁওয়ের সারের বাজারে তীব্র সংকটের মধ্যেই মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামের সামনে আটকে রয়েছে ৫৮টি সারবোঝাই ট্রাক। গুদামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুত এবং সময়মতো ডিলারদের মধ্যে সার বিভাজন বা বরাদ্দ ছাড় না করায় মূলত এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে গুদাম ও সড়কে ট্রাকের দীর্ঘ জট, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকটে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আর এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চক্র নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুদামে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুত ও ট্রাক জট

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবর মাসের বরাদ্দকৃত সার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সময়মতো তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসি সার সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা মোড. আহাদ আলী জানান, গুদামটির ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। অথচ অক্টোবর মাসে বরাদ্দ এসেছে ৯ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন। এর আগে থেকেই গুদামে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। ফলে নতুন সার রাখার মতো কোনো জায়গা খালি নেই এবং ডিলারদের মাঝে বিভাজন না হওয়ায় তারাও সার তুলতে পারছেন না।

এদিকে বিসিআইসির শিবগঞ্জ বাফার গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. মজনু রহমান জানান, সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ওই গুদামে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার মজুত রয়েছে, যার মধ্যে অক্টোবর মাসের নতুন বরাদ্দও এসে পৌঁছেছে।

কৃষকদের দুর্ভোগ ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ

আমনের ভরা মৌসুম ও শাকসবজির আবাদের এই সময়ে সারের কৃত্রিম সংকটের কারণে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কৃষক মামুনুর রশীদ, মনসুর আলী ও ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাধ্য হয়ে তাদের যথাক্রমে ১ হাজার ৫৫০ ও ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ক্যাশমেমো দিলেও প্রয়োজনের তুলনায় নামমাত্র সার দিচ্ছেন (যেমন ৩০ বিঘা জমির জন্য মাত্র এক বস্তা সার)। এছাড়া কিছু অসাধু ডিলার ও স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে কোটার সার সরাসরি খুচরা দোকানে পাচার করা হচ্ছে। সদর উপজেলার ডিলার মেসার্স দবিরুল ইসলামের স্বত্বাধিকারী রাজিউর রহমানের মতে, কৃষকের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দকৃত পরিমাণ অত্যন্ত কম, তাই ডিলার পয়েন্ট ও বরাদ্দ না বাড়ালে এই সংকট কাটবে না।

প্রশাসনের বক্তব্য

সার সংকটের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাজেদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং অক্টোবর-নভেম্বর মাসের বরাদ্দ নিরাপদ রাখতে তা চাওয়া হয়েছিল। তবে আগামী ৭ থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে নিয়মিত বরাদ্দ ছাড় করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি আরও জানান, জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। জেলায় ৭৮ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন। এছাড়া ৫৬ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ২১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ডিএপি সার চাহিদার তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency