| বঙ্গাব্দ

ঘুম ভাঙতেই ফোন হাতে নিচ্ছেন? অজান্তেই হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-09-2026 ইং
  • 5250 বার পঠিত
ঘুম ভাঙতেই ফোন হাতে নিচ্ছেন? অজান্তেই হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি
ছবির ক্যাপশন: ঘুম ভাঙতেই ফোন হাতে নিচ্ছেন?

ডিজিটাল ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ: মুক্তি মিলবে যেভাবে

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে সারাদিন তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা আধুনিক মানুষের মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজের বাহ্যিক চাপের চেয়েও মস্তিষ্কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা মানুষকে খুব দ্রুত অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।

বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন মূলত একটি নির্দিষ্ট ও ছোট সামাজিক পরিমণ্ডলে সীমিত সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠেছিল। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে দূরবর্তী অঞ্চলের সংকট, যুদ্ধ, অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য কিংবা ভ্রমণের ঝলকানি সার্বক্ষণিকভাবে চোখের সামনে হাজির হচ্ছে। ফলে নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও মানুষ অবচেতনভাবেই পৃথিবীর বহু বিষয়ের মানসিক চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে।

কৃত্রিম তুলনা ও মানসিক ভার বৃদ্ধি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনা মানুষের মানসিক ভার আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে কেবল মানুষের জীবনের বাছাই করা ইতিবাচক মুহূর্তগুলোই প্রদর্শিত হয়, যা কখনোই পুরো জীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। এই কৃত্রিম তুলনায় জড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তি নিজের সক্ষমতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে একধরনের অযাচিত অতৃপ্তিতে ভোগে।

মানসিক ক্লান্তি দূর করার উপায়

মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ও মানসিক ক্লান্তি থেকে নিস্তার পেতে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক শৃঙ্খলা আনা অত্যন্ত জরুরি:

  • সময়কে ছোট করে আনা: এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তায় একবারে ভারাক্রান্ত না হয়ে সময়কে ছোট করে এনে কেবল প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

  • নিয়ন্ত্রণ ও তথ্যের পার্থক্য বোঝা: কোন বিষয়টি নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোনটি কেবলই বাইরের তথ্য—এই পার্থক্য স্পষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মানসিক দায় নেওয়া থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

  • ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করা: সারাদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদের পেছনে না ছুটে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় নিজেকে এসব থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা এবং কর্মঘণ্টা শেষে নিজস্ব সময়কে আলাদা করা মনোযোগ ও স্বস্তি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর অসম্ভব মানসিকতা পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও তুলনা জীবন থেকে বাদ দেওয়াই আধুনিক যুগে মানসিক অবসাদ কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency