| বঙ্গাব্দ

পাবনায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে গ্রেফতারের দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-03-2025 ইং
  • 6183444 বার পঠিত
পাবনায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে গ্রেফতারের দাবি
ছবির ক্যাপশন: পাবনায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে গ্রেফতারের দাবি

পাবনায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে গ্রেফতারের দাবি

পাবনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নথিভুক্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতি (২৭ মার্চ) বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ মিছিলটি বের করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো পরিক্রমা করে, আবারো একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিলটি পুরো সময় ধরে প্রতিবাদ এবং দাবির স্লোগানে মুখরিত ছিল। প্রতিবাদকারীরা ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করো’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য:

মিছিল শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব এডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবী করেন, “মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “একটি স্বাধীন জাতির জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস অপরিহার্য। সেই ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না। বর্তমান সরকারের আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এই অবস্থা সঠিক নয় এবং জাতির কাছে এর জবাবদিহি করা উচিত।”

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠান বিতর্ক:

পাবনায় গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার তার বক্তব্যে বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবুর রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন” এবং “মহান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।”

এ মন্তব্যের পর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জেলা বিএনপির নেতারা এই ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে।

বিএনপির অভিযোগ ও দাবী:

বিএনপির নেতারা বলেন, “বর্তমান সরকারের একাধিক পদক্ষেপে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কখনো মেনে নেওয়া যাবে না।”

এছাড়া, বক্তারা অভিযোগ করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে সরকার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি পাওয়া লোকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে,” তারা দাবী করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠার আহ্বান:

বিএনপির নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। তারা বলেন, “এটি শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, জাতির সম্মান ও সম্মাননা সুরক্ষার বিষয়।”

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিক্ষোভ মিছিলে সাড়া দিয়েছেন এবং কিছু মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ইতিহাসের কোনো বিকৃতি মেনে নেওয়া উচিত নয়। তবে, কিছু বাসিন্দা বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন এবং তাদের মতে, এই ধরনের বিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য।

পরবর্তী পদক্ষেপ:

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সরকারের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency