প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
একসময় ভারতের মূলধারার সিনেমা বলতে কেবল মুম্বাইয়ের বলিউডকেই বোঝানো হতো। বড় তারকা মানেই হিন্দি ছবির নায়ক-নায়িকা আর বিশাল বাজেট মানেই বলিউডের একক আধিপত্য—এটাই ছিল চিরচেনা চিত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ‘বাহুবলী’, ‘কেজিএফ’, ‘আরআরআর’, ‘পুষ্পা’ কিংবা ‘কান্তারা’র মতো দক্ষিণী ছবিগুলো ভাষার সীমানা পেরিয়ে সব অঞ্চলের দর্শকের ঘরে পৌঁছে তৈরি করেছে সর্বভারতীয় বাজার। দক্ষিণের অভিনেতারাও এখন আর কেবল নির্দিষ্ট ভাষাভাষী দর্শকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন, বরং পুরো দেশজুড়ে তাদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল ক্রেজ।
তবে এই পরিবর্তনকে সরাসরি ‘বলিউড বনাম দক্ষিণ’ হিসেবে দেখতে নারাজ বলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা করণ জোহর। তাঁর মতে, দক্ষিণের সিনেমার সাফল্যকে বলিউডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা ভারতীয় সিনেমার সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর। উত্তর বা দক্ষিণে ভাগ না করে সবার যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠছে একক ‘ইন্ডিয়ান সিনেমা’। একইভাবে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানও দক্ষিণী সিনেমার শক্তিশালী গল্প ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রশংসা করেছেন। ‘জওয়ান’ সিনেমায় দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলির সঙ্গে তাঁর সফল কাজ তারই প্রমাণ দেয়।
রিমেক থেকে সরাসরি প্যান-ইন্ডিয়া বাজার:
দক্ষিণের সঙ্গে বলিউডের সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০০৮ সালের ‘গজনি’ (সূরিয়ার তামিল ছবির হিন্দি রূপ) থেকে শুরু করে ‘ওয়ান্টেড’, ‘সিংহাম’, ‘রাউডি রাঠোর’, ‘কবির সিং’ কিংবা ‘দৃশ্যম’-এর মতো বহু ছবি বলিউডকে উপহার দিয়েছে দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য। এমনকি পুরোনো দিনের ‘শক্তি’, ‘রাম অউর শ্যাম’ কিংবা ‘বম্বে টু গোয়া’র মতো ছবিও তৈরি হয়েছিল দক্ষিণী কাহিনীর অনুপ্রেরণায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্কের ধরন পাল্টে গেছে। আগে দক্ষিণের সফল ছবি বলিউডে এসে নতুন করে রিমেক হতো। কিন্তু এখন ‘আরআরআর’, ‘কেজিএফ’ বা ‘পুষ্পা’র মতো ছবিগুলো কোনো রিমেক ছাড়াই সরাসরি মূল রূপেই প্যান-ইন্ডিয়া বাজারে ঝড় তুলছে। যদিও দক্ষিণী অভিনেতা নানি সম্প্রতি এই ‘প্যান-ইন্ডিয়া’ তকমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, হিন্দি ছবি সারা দেশে চললে তাকে যেমন শুধু ‘হিন্দি ছবি’ বলা হয়, তেমনি দক্ষিণের ছবি সফল হলেও তাকে সামগ্রিক ভারতীয় সিনেমা হিসেবেই দেখা উচিত।
সহযোগিতা ও দর্শক চাহিদার নতুন যুগ:
অভিনয়শিল্পী সন্দীপ কিশনের মতে, দুই ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক মূলত সহযোগিতার। ডাবিং, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সহজলভ্য স্ট্রিমিংয়ের কারণে আজ দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। সালমান খানও দক্ষিণী তারকাদের স্থানীয় দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগের প্রশংসা করে শক্তিশালী গল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত ‘বলিউড বনাম দক্ষিণ’ লড়াইটি বক্স অফিসের দ্বৈরথের চেয়েও বেশি দর্শকের মন জয় করার প্রতিযোগিতা। অতীতে ‘গজনি’ বা ‘কবির সিং’ যেমন বলিউডকে বাঁচিয়েছে, তেমনি ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’-এর মতো হিন্দি ছবিও প্রমাণ করেছে মুম্বাইয়ের বাজার এখনো সর্বভারতীয়। আর এই দুই ইন্ডাস্ট্রির আদান-প্রদান ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই রচিত হচ্ছে আধুনিক ভারতীয় সিনেমার এক নতুন ও সোনালী মানচিত্র।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |