আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মানববন্ধন
আজ সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দাবি জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে রাখা যাবে না এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত শুরু করতে হবে। এসময় তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছেন।
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি
শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্যে অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, "আট মাস অতিবাহিত হলেও জুলাই গণহত্যার বিচার এখনও শুরু হয়নি। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই, বিচারের নামে রঙ্গমঞ্চ ও তামাশা করা হচ্ছে।" তাদের মতে, রানা প্লাজা, ২১ আগস্টসহ বিভিন্ন ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। শহীদ পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সন্তানদের হত্যার বিচার প্রক্রিয়া থেমে থাকার কারণে তারা হতাশ এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন যে, কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে রাখা যাবে না। তারা বলেন, "যদি কোনো দল বা গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য আঁতাত করে, তাহলে তারা দেশের শত্রু।" তাদের দাবি, এই দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এখন পর্যন্ত চলমান হত্যাকাণ্ড এবং সংঘর্ষের জন্য দায়ী।
এদিকে, শহীদ পরিবারের সদস্যরা সতর্ক করে দেন যে, "জুলাই শহীদদের বিচার সম্পন্ন হওয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।" তাদের মতে, বিচার না হলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় এবং তারা দৃঢ়ভাবে এ দাবি জানাচ্ছেন যে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার হতে হবে। তারা দাবি করেছেন, "প্রথমে বিচার, তারপর সংস্কার, এরপর নির্বাচন।"
বিচারের জন্য সংগ্রাম
এছাড়া, শহীদ পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্টভাবে জুলাই শহীদদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের মতে, দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে পরিণত হতে হলে সব অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি, না হলে দেশের জনগণ কখনোই নিরাপত্তা ও শান্তি পাবে না। এই অবস্থায়, তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন এবং জানান, যতদিন না সুষ্ঠু বিচার হবে, ততদিন তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনের প্রতিক্রিয়া
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। তারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের আন্দোলনকে সমর্থন জানান এবং ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। বিভিন্ন বক্তা বলেছেন যে, শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক বিষয় হিসেবেও শহীদদের বিচার এবং তাদের পরিবারের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া উচিত।
এ মানববন্ধন একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেয়, যা আগামী দিনে দেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে নতুন দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। এই দাবির প্রতি সরকারের সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশজুড়ে একটি ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশাবাদী শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |