আন্তর্জাতিক সংবাদ
১৬ আগস্ট, ২০২৬
জুন মাসে মাত্র এক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহের কারণে ইউরোপজুড়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ান মর্টালিটি মনিটরিং নেটওয়ার্কের একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই তীব্র দাবদাহের প্রভাবে ইউরোপে অতিরিক্ত প্রায় ১৬,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই সিংহভাগ ঘটনাই ঘটেছে উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে, বিশেষ করে ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং জার্মানিতে।
📌 অতিরিক্ত মৃত্যু: জুন মাসের এক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহে ইউরোপজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ১৬,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
📌 সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: মৃত্যুর সিংহভাগ ঘটনা ঘটেছে উত্তর ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে, কারণ এসব দেশ এত উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত নয়।
📌 এয়ার কন্ডিশনারের অভাব: উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে বাসাবাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের হার খুবই কম থাকায় তা এখন রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📌 নতুন সতর্কতা: যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তাপমাত্রা আবারও ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমগ্র ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা যখন ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, তখন মূলত উত্তর-পশ্চিমের দেশগুলোতেই মৃত্যুর হার হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, কারণ তীব্র গরম মোকাবেলায় তাদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। এর বিপরীতে, দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলো শতাব্দী ধরে উচ্চ তাপমাত্রার মুখোমুখি হওয়ার কারণে গরম মোকাবিলার নানা কৌশল রপ্ত করে নিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভাইরাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রের রোগ ছড়িয়ে পড়া শীতকালের চেয়েও জুনের এই এক সপ্তাহের দাবদাহে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রেকর্ড ভেঙে জুন মাসটি সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এমন পরিবেশ পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
ইউরোপীয় দাবদাহ ও পরিস্থিতি একনজরে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • মোট অতিরিক্ত মৃত্যু : প্রায় ১৬,০০০ জন (এক সপ্তাহের দাবদাহে)। │
│ • সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল : উত্তর ইউরোপ (ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি)। │
│ • মূল কারণ : উচ্চ তাপমাত্রার প্রতি অনভ্যস্ততা ও এসি-র স্বল্পতা। │
│ • বর্তমান পরিস্থিতি : যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ৩৫°C পর্যন্ত তাপমাত্রার নতুন সতর্কতা।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
তীব্র তাপদাহে ইতোমধ্যে বেশ কিছু নদ-নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে এবং তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দাবানল। এর মধ্যেই ইউরোপের একটি বড় অংশ আবার নতুন করে দাবদাহের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তাপমাত্রা আবারও ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝামাঝি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর (মেট অফিস) জানিয়েছে, ঠান্ডা জলবায়ুর উপযোগী করে তৈরি করা তাদের জাতীয় অবকাঠামো আরও একটি দাবদাহের মুখে পড়তে যাচ্ছে। তাদের মতে, ‘অত্যধিক গরম আবহাওয়ার আরও একটি প্রবাহ যুক্তরাজ্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে, যেখানে কিছু স্থানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি যেতে পারে।’
অন্যদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘মেতেও-ফ্রান্স’ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সপ্তাহ জুড়ে দেশটির বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে এবং পুরো দেশজুড়ে তা ছড়িয়ে পড়বে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ‘ভবিষ্যতের গ্রীষ্মকালগুলো অতীতের চেয়ে আরও বেশি উষ্ণ হবে।’
সর্বোপরি, ইউরোপে জুন মাসের এই ভয়াবহ দাবদাহ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতিরই এক নগ্ন বাস্তবায়ন। উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং এয়ার কন্ডিশনারের স্বল্পতার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করলেও আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় দেশগুলোকে আরও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে হঠাৎ করে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোর মতো শীতপ্রধান দেশগুলোকেও এখন দীর্ঘমেয়াদী হিট-অ্যাকশন প্ল্যান ও শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি করার সময় এসেছে, অন্যথায় এমন মানবিক বিপর্যয় পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
প্রধান তথ্যসূত্র: ইউরোপিয়ান মর্টালিটি মনিটরিং নেটওয়ার্ক, নিউইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের মেট অফিস এবং মেতেও-ফ্রান্স।
সংবাদ বিশ্লেষণ: আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া বিষয়ক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |