| বঙ্গাব্দ

মায়ের মৃত্যুর পর নর্মদা নদীর জলে জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন গোবিন্দ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-08-2026 ইং
  • 3077 বার পঠিত
মায়ের মৃত্যুর পর নর্মদা নদীর জলে জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন গোবিন্দ
ছবির ক্যাপশন: গোবিন্দ

মনে হয়েছিল গভীরে গেলে মায়ের দেখা পাব": ১৯৯৬ সালের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন গোবিন্দ

বিনোদন সংবাদ

১০ আগস্ট, ২০২৬

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ তার জীবনের এক কঠিন ও অন্ধকার অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। ১৯৯৬ সালে নিজের মা, প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী নির্মলা দেবীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, মায়ের সঙ্গে পুনরায় দেখা পাওয়ার আকূতিতে নর্মদা নদীর জলে নেমে জীবন শেষ করার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা শেয়ার করেন এই তারকা।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • মায়ের প্রয়াণ ও মানসিক বিপর্যয়: ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে গোবিন্দর মা নির্মলা দেবী মারা যান, যা অভিনেতার জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা ও চরম কষ্টের সৃষ্টি করেছিল।

  • নদীর জলে আত্মহত্যার চেষ্টা: মায়ের প্রতি গভীর টানে আত্মহননের উদ্দেশ্যে নর্মদা নদীতে নেমে পড়েছিলেন গোবিন্দ, যাতে তিনি নদীর গভীরে গিয়ে মায়ের দেখা পান।

  • সাধুর কথায় চেতনা ফেরা: নদীর তীরে থাকা রাম কুণ্ডল নামের এক সাধু তাকে ডেকে ফেরানোর পর তার চেতনা ফটে এবং তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন।

  • জীবনের আসল শিক্ষা: সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার তাগিদ উপলব্ধি করে তিনি সেই মানসিক অবস্থা থেকে ফিরে আসেন এবং বুঝতে পারেন যে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল তার জীবনের আসল অর্জন।

  • বর্তমান ব্যস্ততা: বর্তমানে গোবিন্দ তার নতুন চলচ্চিত্র ‘রূপা’-র প্রচারণার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

নর্মদা নদীর তীরে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক মুহূর্ত

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ জানান যে মায়ের মৃত্যুর পর তার মনে হয়েছিল জীবনের সবকিছু যেন সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। সেই চরম হতাশা থেকে তিনি নর্মদা নদীর তীরে চলে যান এবং পানির গভীরে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, "একপ্রকারের তাই। মায়ের প্রতি আমার ভীষণ টান ও গভীর ভালোবাসা ছিল। বিশ্ব হয়তো একে 'আত্মহত্যা'র মতো শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করবে, কিন্তু আমরা বিষয়টিকে এভাবে দেখি না।"

পানিতে নেমে যাওয়ার পর নদীর তীরে উপস্থিত রাম কুণ্ডল নামের এক সাধু তাকে দেখতে পান এবং ডেকে ওঠেন। গোবিন্দ স্মরণ করেন, "তিনি আমাকে ডেকে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। আমি পানি থেকে উঠে আসার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কী হয়েছে গোবিন্দ?' তার সেই প্রশ্নটি আমার চেতনা ফিরিয়ে আনে।" সাধুর সেই একটিমাত্র প্রশ্ন তাকে উপলব্ধি করায় যে তার সন্তানদের জন্য তাকে বেঁচে থাকতে হবে। এই মানসিক সংকট কাটিয়ে উঠতে তার প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগেছিল।

গোবিন্দর জীবনের কঠিন অধ্যায় ও উপলব্ধি:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • মাতৃবিয়োগ       : ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন মায়ের (নির্মলা দেবী) প্রয়াণ।        │
│ • আত্মহত্যার চেষ্টা : মায়ের সঙ্গে দেখা করার আকূতিতে নর্মদা নদীর জলে নেমেছিলেন।│
│ • জীবন রক্ষাকারী  : সাধু রাম কুণ্ডলের সময়মতো ডাকে চেতনা ফিরে আসে।       │
│ • আসল অর্জন     : মায়ের স্বপ্ন পূরণ ও পরিবারের সেবা করাকেই জীবনের বড় সাফল্য মনে করেন।│
│ • আসন্ন প্রজেক্ট  : বর্তমানে নতুন চলচ্চিত্র ‘রূপা’র প্রচারণায় ব্যস্ত।              │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

স্টারডম এবং জীবনের প্রকৃত হিরোইজম

মায়ের প্রয়াণ এবং নিজের জীবন দর্শন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দ জানান, সিনেমা বা তারকাখ্যাতি তার কাছে কেবলই ওপরওয়ালার দান। তার ভাষায়, "সিনেমা আমার কাছে খেলনার মতো। ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বলছি... অভিনয়, খ্যাতি, হিরোইজম—এসবই ওপরওয়ালার দান। আমরা কেবল ঈশ্বরের দেওয়া ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছি।" ২১ বছর বয়সে পৌঁছালে ছেলে গোবিন্দ কী কী অর্জন করবে—মায়ের এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা এবং পরিবারের সেবা করাকেই তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় হিরোইজম বলে মনে করেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency