| বঙ্গাব্দ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমকামিতা: বিজ্ঞান ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-08-2026 ইং
  • 35188 বার পঠিত
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমকামিতা: বিজ্ঞান ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমকামিতা

সমকামিতা কি রোগ? যা বলছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা

বিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্য ডেস্ক

৩ আগস্ট, ২০২৬

সমকামিতা বা সমলিঙ্গের প্রতি যৌন ও রোমান্টিক আকর্ষণ নিয়ে শতাব্দী ধরে সমাজ, ধর্ম ও বিজ্ঞানে নানা আলোচনা-আলোচনা চলেছে। বহু ভুল ধারণা ও কুসংস্কার থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট তথ্যভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • মানসিক রোগ নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) সমকামিতাকে কোনো মানসিক ব্যাধি বা বিকৃতি হিসেবে গণ্য করে না।

  • কারণসমূহ: এর পেছনে কোনো একক ‘গে জিন’ নেই, বরং জিনগত, হরমোনজনিত ও স্নায়বিক বিভিন্ন উপাদানের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলে যৌন অভিমুখিতা গড়ে ওঠে।

  • সংক্রামক নয়: সমকামিতা কোনো সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বিষয় নয় এবং এটি কারও সঙ্গ বা প্রভাবে হঠাৎ তৈরি হয় না।

  • কনভার্সন থেরাপির ক্ষতি: জোর করে যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের চেষ্টা অকার্যকর এবং এটি তীব্র মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

অতীতের নানা অসম্পূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে আধুনিক গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, বিষমকামিতার মতোই সমকামিতাও মানুষের যৌন অভিমুখিতার একটি স্বাভাবিক বৈচিত্র্য।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তসমূহ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • ১৯৭৩ সাল: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) মানসিক রোগের         │
│             তালিকা (DSM) থেকে সমকামিতাকে বাদ দেয়।                           │
│ • ১৯৯০ সাল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ (ICD)     │
│             থেকে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করে।                          │
│ • বর্তমান : বিশ্বের প্রধান সব চিকিৎসা সংস্থা এটিকে স্বাভাবিক মানব বৈচিত্র্য   │
│             হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।                                          │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

জিনগত বিজ্ঞান ও গবেষণার তথ্য

২০১৯ সালে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রায় ৫ লাখ মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণের ওপর প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সমকামিতার পেছনে একক কোনো বংশাণু (Gene) দায়ী নয়। বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র জিনগত প্রভাব এবং গর্ভকালীন হরমোনের তারতম্যের সমন্বয়ে যৌন অভিমুখিতা নির্ধারিত হয়।

এছাড়াও, তথাকথিত ‘কনভার্সন থেরাপি’ বা জোরপূর্বক চিকিৎসা কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রাখে না এবং বিশ্বজুড়ে শীর্ষ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency