আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়া ডেস্ক
১ আগস্ট, ২০২০
ভারতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমন্বিত প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET/নিট)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস, দফায় দফায় পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় প্রধান রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য দিলে তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল।
তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের কাছে মহাবলীপুরমে নিট পরীক্ষার মানসিক চাপে প্রাণ হারানো একাধিক শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারে রাহুল: মহাবলীপুরমে নিট পরীক্ষায় জালিয়াতি ও চাপের মুখে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জ্ঞাপন।
শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপ: প্রশ্নপত্র ফাঁস, শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল ও বছরের পর বছর করা পরিশ্রম এক রাতে পণ্ড হওয়া ভারতের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রমাণ।
মোদির সমালোচনার জবাব: শিক্ষার্থীরা অন্যায় করেনি যে তাদের ক্ষমা করতে হবে; বরং ব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য সরকারকেই শিক্ষার্থীদের কাছে হাতজোড় করতে হবে।
আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্তাপ: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি তরুণদের সূচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে ছড়িয়ে পড়া ঐতিহাসিক আন্দোলনকে কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
নিহত শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের কান্নার স্মৃতি উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদ সম্মেলনে বলেন:
রাহুল গান্ধী (কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা):
"সন্তান হারানো শোকাহত বাবা-মায়ের কান্নার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছু হতে পারে না। প্রতিটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাওয়ার পেছনে একটি করে পরিবার সারাজীবনের জন্য অপূরণীয় কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। সরকার সততা দেখায় না, অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শতভাগ সততা প্রত্যাশা করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে বা সন্তান হারিয়ে যারা নিঃস্ব, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাউকেও সান্ত্বনা দিতে যাননি।"
নিট (NEET) ও ভারতে চলমান শিক্ষা আন্দোলনের সার্বিক চিত্র:
┌──────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • মূল সংকট : গত এক দশকে ১৫৪টির বেশি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও অর্থনৈতিক জালিয়াতি। │
│ • আন্দোলনকারী : 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) ও জেন-জি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি। │
│ • রাজনৈতিক দাবি : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও মোদির জবাবদিহিতা।│
│ • বিরোধীদের ভূমিকা : লোকসভা ও রাজাসভায় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর তুমুল হট্টগোল। │
└──────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
সম্প্রতি ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ ও জেন-জি (Gen-Z) শিক্ষার্থীরা 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) বা সংক্ষেপে 'ককরোচ পার্টি' নামে এক ব্যঙ্গাত্মক ও শক্তিশালী আন্দোলনের সূচনা করেছে। তেলাপোকাকে যেমন সহজে দমন করা যায় না, তেমনি শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত আন্দোলনকেও দমন করা যাবে না—এমন প্রতীকী বার্তা থেকেই এই নামকরণ।
দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সিজেপি (CJP) আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনার পর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও অভিযানে অংশ নেন এবং সাময়িকভাবে আটক হন।
১. তরুণ ভোটার ও শিক্ষা ব্যবস্থার রাজনৈতিক অভিঘাত
ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী নিট (NEET) ও ইউজিসি-নেট (UGC-NET)-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে থাকে। একের পর এক পরীক্ষা স্থগিত ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজ সরকারের ওপর তীব্র অসন্তুষ্ট।
২.
কৃষক আন্দোলনের পর শিক্ষার্থী ও তরুণদের গঠিত এই 'ককরোচ পার্টি'-র গণআন্দোলনকে কংগ্রেস ও বিরোধীরা প্রধান বিরোধী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মোদি সরকারের শিক্ষানীতির তোপ দাগিয়ে বিরোধী জোট তরুণ সমাজের সমর্থন নিজেদের ঝুলিতে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |