আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই, ২০২৬
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে আবারও ইরানের ‘রেজিম চেঞ্জ’ (শাসন পরিবর্তন) প্রসঙ্গটি উঠে আসতে পারে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা-র মতে, নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উচ্ছেদের পক্ষে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারেন, যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে সামরিক সংঘাত বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে তীব্র অজনপ্রিয়। ফলে নেতানিয়াহুর এ ধরনের প্রস্তাব ট্রাম্পের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
রেজিম চেঞ্জের চেষ্টা: নেতানিয়াহু পুনরায় তেহরানে শাসন পরিবর্তনের চাপ দিতে পারেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন জনমতের ভয়ে এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইসরায়েলের অসন্তোষ: তেহরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক এবং সামরিক আগ্রাসন কমানোর নীতিতে তেল আবিব অসন্তুষ্ট।
মূল দাবি: ইসরায়েল চায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর মার্কিন চাপ যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়।
মার্কিন সীমাবদ্ধতা: ভূমিতে সরাসরি সামরিক অভিযান বা দেশ দখল না করে ওয়াশিংটনের পক্ষে এককভাবে ইরানের শাসন পরিবর্তন করা অবাস্তব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একাধিক শীর্ষ বৈঠকের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। এবারের বৈঠকেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি তুলবেন।
🏛️ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের মূল দ্বিমুখী অবস্থান:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • ইসরায়েলের অবস্থান : ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি │
│ ধ্বংস করা এবং শাসন পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি। │
│ • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান : ভূ-রাজনৈতিক চুক্তি ও সীমিত কৌশলগত বিমান হামলার │
│ মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা আল জাজিরাকে জানান:
"প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো সামরিক অভিযানে যেতে চান না যা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অজনপ্রিয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সেনা পাঠিয়ে ইরান দখল করার মতো বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।"
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও চুক্তি নিয়ে তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ কাজ করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, চুক্তি হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পুনর্বিকাশ ঘটাবে। ফলে নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হবে ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তেহরানকে কোনো প্রকার অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া না হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব (২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. চুক্তি সফল হলে : সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন ও বিশ্ব তেল বাজারে স্বস্তি। │
│ ২. আলোচনা ব্যর্থ হলে : ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ও আকাশপথের │
│ হামলা নতুন করে শুরু হওয়ার ঝুঁকি। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশল ও ইসরায়েলি কূটনৈতিক চাপ │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • রাজনৈতিক খরচ ও নির্বাচন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সামরিক আগ্রাসন সাধারণ মার্কিন │
│ জনগণ ও ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। │
│ • বিকল্প পথ: সরাসরি 'রেজিম চেঞ্জ'-এর বদলে ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক │
│ সংকট ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে অভ্যন্তরীণ পতন ত্বরান্বিত করার নীতি অনুসরণ করছে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |