আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত ডেস্ক
২৫ জুলাই, ২০২৬
চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতিতে ইরানকে সরাসরি সহায়তা বা অস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যুক্ত নেই বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দুই পরাশক্তি যদি কোনোভাবে ইরানের পক্ষে সরাসরি সামরিক বা প্রযুক্তিগতভাবে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা তাদের নিজেদের জন্যই ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত আশ্বাসের কথা তুলে ধরে তাদের প্রতি নিজের ট্রাস্টের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্পের দাবি: বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন তারা ইরানকে অস্ত্র দেবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের দ্বিমত: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেট শুনানিতে জানান, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন স্তরে ইরানকে সহায়তা বা ‘সক্ষম’ (enable) করে তুলছে।
গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ: মার্কিন সিআইএ ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর রাশিয়া ইরানকে কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) তথ্য বা ড্রোন প্রযুক্তি দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞা: ইতোমধ্যে ইরানকে সামরিক উপকরণ ও প্রযুক্তি পেতে সহায়তার অভিযোগে বেশ কিছু রুশ ও চীনা প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, বেইজিং সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, চীন সরকার কিংবা কোনো চীনা প্রতিরক্ষা কোম্পানি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র দেবে না বা বিক্রি করবে না।
💬 ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ দ্বিমুখী অবস্থান:
• ট্রাম্পের বক্তব্য : "শি জিনপিং ও পুতিনের কথায় আমার আস্থা আছে। তারা ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে না।"
• পেন্টাগনের অবস্থান : প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের দাবি, মস্কো ও বেইজিং অলক্ষ্যে তেহরানকে সহযোগিতা করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট):
"পুতিন ভালো করেই জানেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনকে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো মিত্রদের কাছে বিক্রি করে, যারা এর পুরো দাম পরিশোধ করে। তাই পশ্চিম এশিয়ার এই দুই প্রধান পরাশক্তি ইরানকে সরাসরি অস্ত্র দিচ্ছে না। যদি তারা দেয়, তবে তা তাদের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।"
ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে দুই পরাশক্তিকে বিশ্বাস করার কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও পেন্টাগনের প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ত্রিমুখী কৌশলগত অবস্থান │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • ট্রাম্পের ডিপ্লোম্যাসি: বেইজিং ও মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি │
│ পাবলিক প্ল্যাটফর্মে নেতাদের সম্মান দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা। │
│ • রাশিয়া-চীনের ছায়া ভূমিকা: সরাসরি অস্ত্র বিক্রি না করলেও গোয়েন্দা তথ্য │
│ বা প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য বজায় রাখা। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে কৌশলে ইউক্রেন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণকে যুক্ত করেছেন। রাশিয়াকে অস্ত্র বিক্রিতে নিরুৎসাহিত করতে তিনি ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের ভারসাম্যপূর্ণ যুক্তি সামনে এনেছেন।
রাশিয়া ও চীনের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই নমনীয় বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে মস্কো বা বেইজিংকে সরাসরি ইরান যুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে আনতে চাইছে না।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |