শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের অন্তর্ভুক্তি, ১৮ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদ
জুলাই-আগস্ট গণহত্যার প্রথম মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী আসামি হিসেবে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরই মধ্যে আগামী ১৮ মার্চ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) সকালে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনকে পুলিশের প্রিজনভ্যানে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এই সময় শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন শেখ হাসিনার কমান্ড বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। তার কারণে তাকে শেখ হাসিনার সঙ্গে সহযোগী আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের আশা করা হচ্ছে।
এ সময় প্রসিকিউটর মো. মিজানুর রহমান, গাজী এম এইচ তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাজনিন নাহার।
গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিনই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এই মামলার সঙ্গে সাভারের আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনা জড়িত। সেখানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা সায়েদুর রহমান সুজন, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৮ মে ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনাকে সমর্থন এবং সহায়তা দিয়েছেন।
এছাড়া, তদন্তের মধ্যে এসেছে যে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রদেশ ও রাজধানীতে সরকারি বিরোধী আন্দোলন দমনে অবৈধভাবে পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এই কারণেই তাকে সহযোগী আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও জানান, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, দ্রুত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে, এই মামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষত, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতাগুলোর তদন্ত এখন আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে। সুতরাং, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের ভূমিকা এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী নাজনিন নাহার আদালতে তার নির্দোষত্ব দাবি করেন এবং বলেন, "আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অনুসরণ করছি এবং আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন।" তবে আদালত তার বক্তব্য গ্রহণ করেনি এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১৮ মার্চের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, আদালতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ মামলার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকের নাম প্রকাশিত হতে পারে এবং পরবর্তী শুনানির পর আরও আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষত, সাভারের আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার বিচার কার্যক্রম দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে বিচার বিভাগের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে দেশবাসী সুষ্ঠু বিচার দেখতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার কার্যক্রম কবে শুরু হবে এবং এটি দেশের জন্য কী ধরনের বিচারিক উদাহরণ হতে পারে, সে বিষয়ে বিচারিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |