| বঙ্গাব্দ

পল্লবী হত্যা: শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত শাস্তির দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-05-2026 ইং
  • 15595 বার পঠিত
পল্লবী হত্যা: শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত শাস্তির দাবি
ছবির ক্যাপশন: পল্লবী হত্যা

প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’: পল্লবী হত্যায় দোষীদের দ্রুত ফাঁসির দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

বুধবার, ২০ মে ২০২৬: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রধান ঘাতকসহ জড়িতদের অতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

‘মানবতা লজ্জিত’: ফেসবুকে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বার্তা

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হত্যাকাণ্ডের নির্মমতায় স্তব্ধ হয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন:

"প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন। তুমি চলে গেছ—তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে।"

খুনিদের দ্রুততম সময়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা'আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।”

ঘটনার বিবরণ: মিরপুর পল্লবীর ফ্ল্যাটে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং আবদুল হান্নান মোল্লার ছোট মেয়ে।

  • স্কুলে যাওয়ার আগে নিখোঁজ: মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সাথে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু হুট করেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের বাসার ঠিক পাশের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার এক পাটি জুতো পড়ে থাকতে দেখেন তার মা।

  • লাশ উদ্ধারের লোমহর্ষক দৃশ্য: পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও রিকশা মেকানিক সোহেল রানার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ সকাল ১১টার পর ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

  • বিচ্ছিন্ন মাথা ও বিবস্ত্র লাশ: ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে রামিসার বিবস্ত্র ও খণ্ডিত মূল মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর পাশের শৌচাগার (টয়লেট) থেকে রঙের একটি খালি প্লাস্টিক বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন বা নিপীড়নের চেষ্টা করার পর অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দ্বিখণ্ডিত করা হয় এবং লাশ গুমের চেষ্টা চলছিল।

পুলিশি অ্যাকশন: প্রধান ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না গ্রেপ্তার

হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধস্থলে লুকিয়ে থাকা প্রধান অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) (কারো মতে সম্পা) আটক করে পুলিশ। তবে মূল ঘাতক সোহেল রানা (৩৪) ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানে প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পল্লবী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড ও আইনি পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ এবং পুলিশ কর্তৃক গৃহীত দ্রুত আইনি পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো: 
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও যেভাবে লাশ উদ্ধার হয় 
  • নিখোঁজ ও মায়ের সন্দেহ: ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা পারভীন আক্তার ফ্ল্যাটের বাইরে একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন।
  • দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার: জুতা দেখে মায়ের সন্দেহ হলে তিনি পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে।
  • বাথরুমে খণ্ডিত মাথা: তল্লাশি চালিয়ে ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের (বাথরুম) ভেতরে একটি বালতি থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘাতক আলামত গোপন এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথাটি কেটে আলাদা করেছিল। 
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধানের তথ্য
  • বিকৃত যৌনলালসার শিকার: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি।
  • ধর্ষণ আড়াল করতে হত্যা: ধর্ষণের পর নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ঘাতক শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে ঘাড় থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়। 
দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও আসামিদের গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত আসামি পরিচয় ও ভূমিকাগ্রেফতারের বিবরণ
মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০)পেশায় রিকশা মেকানিক, পাশের ফ্ল্যাটের মূল ভাড়াটিয়া এবং প্রধান ঘাতক.হত্যাকাণ্ডের পর জানালা দিয়ে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আত্মগোপন করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়.
স্বপ্না আক্তার (২৬)প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী.ঘটনার সময় তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি করলেও তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই প্রথমে হেফাজতে নেওয়া হয়.
বর্তমান আইনি পরিস্থিতি
  • আলামত জব্দ: পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরি, রক্তভেজা কাপড় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে।
  • ময়নাতদন্ত: শিশু রামিসার লাশ সুরতহাল শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর ধর্ষণের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
  • মামলা প্রক্রিয়া: গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হচ্ছে। 
এদিকে এই নির্মম ঘটনার পর পুরো মিরপুর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিরোধী দলীয় নেতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। 

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দাবি এলাকাবাসীর

মিরপুরের পল্লবী এলাকায় এই ঘটনার পর থেকে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং রামিসার সহপাঠীদের অভিভাবকেরা মিরপুর-১১ নম্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মামলাটি যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার কবলে না পড়ে। তারা মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খুনি সোহেল রানা ও লাশ গুমে সহায়তাকারী তার স্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আদালতের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

বাংলাদেশের সমসাময়িক অপরাধের খবর, মিরপুর পল্লবী ক্রাইম আপডেট, শিশু অধিকার ও আইনি সুরক্ষা এবং জাতীয় রাজনীতির গভীর ও প্রফেশনাল ইনফরমেশনাল কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিনওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency