জাতীয় ও চিকিৎসা ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জুলাই, ২০২৬
বিগত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে যোগ্য ও মেধাবী মানুষদের প্রমোশন না দিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে কাউকে এগিয়ে দেওয়া আর কাউকে ফেলে রাখা মূলত মানবতার ওপর আঘাতের শামিল। এই অজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দেশে মেধার চরম অপচয় হয়েছে এবং দেশের সর্বনাশ করা হয়েছে।”
শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) বিকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে 'বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি' আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসা খাতে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দলীয়করণের নানাদিক তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন:
“কত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র, সে ছাত্রজীবনে হয়তো ছাত্রদল করেছে বা তৎকালীন সরকারি দল করত না—শুধু এই কারণে তার প্রমোশন আটকে রাখা হয়েছে। অনেকে হয়তো প্রথমে চাকরিই পাননি, পরবর্তীতে চাকরি পেলেও পদোন্নতি পাননি। দিনের পর দিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের ফেলে রেখে সবদিক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেউ যদি ভালো ডাক্তার হন, রোগীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হন, তবে দলীয় মতাদর্শের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হবে কেন?”
তিনি সেমিনারে উপস্থিত চিকিৎসকদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এখানে ডা. রফিক, ডা. লোহানী, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. শাকিলসহ এমন অনেক প্রথিতযশা চিকিৎসক আছেন যাদের আন্তর্জাতিক মানের পাবলিকেশন ও প্রমোশন পাওয়ার মতো সব ধরণের কোয়ালিফিকেশন ছিল। কিন্তু বিগত ১৭ বছর তারা মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন। গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে তারা কোনোদিন অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর বা প্রফেসর হতে পারতেন না।”
নেতৃত্বের সংকটের কারণে দেশ পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “নেতৃত্বের হৃদয়ের মধ্যে যদি গোটা বাংলাদেশ না থাকে, সে কিসের নেতা? বিগত ১৭ বছর ধরে আমরা সেটাই দেখেছি—দেশের মধ্যে দেশ, ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি করা হয়েছিল। আর এর ফলে আমরা অনেক মেধাবী মানুষকে হারিয়েছি। যোগ্য মূল্যায়ন না পেয়ে অনেকে দেশের বাইরে চলে গেছেন এবং সেখানেই স্থায়ী হয়ে গেছেন আর ফিরে আসেননি।”
🏥 চিকিৎসা খাতে বর্তমান সরকারের সংস্কার ও নতুন বাজেট বরাদ্দ:
• বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি: বর্তমান বিএনপি সরকার মেডিকেল ও শিক্ষা সেক্টরে বিগত বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
• চিকিৎসা খরচ হ্রাস: ক্যান্সার, কিডনি, থ্যালাসেমিয়া এবং হার্টের (কার্ডিয়াক) মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা খরচ এক ধাক্কায় প্রায় অর্ধেক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
• নতুন খরচের সিলিং: যেসব জটিল রোগের চিকিৎসায় আগে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগত, খরচের বোঝা কমাতে নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “আমরা এখন অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছি। সেই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি আর নেই, মানুষের অধিকারের জায়গা থেকে অনেক উত্তরণ ঘটেছে। জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসাটাই হচ্ছে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |