আন্তর্জাতিক সাইবার ডেস্ক | নয়াদিল্লি
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬
ভারতের পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির মহাপরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ও দেশটির বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘কুদানকুলাম’-এর নকশা এবং সরবরাহকারী সংক্রান্ত বিশাল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক র্যানসামওয়্যার গ্রুপ ইন্টারনেটের গোপন জগতে এই ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির ‘রিলায়েন্স গ্রুপ’ এই আংশিক ডেটা ফাঁসের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি ইতোমধ্যেই সরকারকে অবহিত করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে জানান, গত ১১ জুন থেকে ডার্ক ওয়েবে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংক্ষিপ্ত রূপ ‘কেকেএনপি’ (KKNP) সংবলিত প্রায় ১৯,০০০টি ফাইল উন্মুক্ত রয়েছে, যার মোট আকার প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট।
ফাঁস হওয়া এই ডেটাগুলো মূলত ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের। রিলায়েন্সের নিজস্ব প্রায় সাড়ে আট লাখ ফাঁসের নথির মধ্যে এই পারমাণবিক কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্যগুলোই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’ (Yotta)-র সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের কিছু ডেটা আংশিক হ্যাক হয়েছে।
📉 ঘটনাপ্রবাহ ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা:
• মে মাসের শেষভাগ: 'ইওটা' তাদের সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যক্রম টের পেয়ে তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
• জুনের শেষভাগ: রিলায়েন্স জানতে পারে যে বহিরাগত হ্যাকাররা ডেটা ফাঁসের দাবি করছে এবং তারা ইওটাকে অবহিত করে।
• বর্তমান পরিস্থিতি: ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’ (CERT-In) এবং ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন (NPCIL) যৌথভাবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ডার্ক ওয়েবে আসা তথ্যগুলো কেবল সাধারণ সেবা কেন্দ্রের সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার (Core System) কোনো সংযোগ নেই।
ফাঁস হওয়া নথিতে পারমাণবিক চুল্লির মূল সিস্টেমের (যা রাশিয়ার রোসাটম সরবরাহ করেছে) কোনো তথ্য নেই। তবে এতে যা যা রয়েছে:
নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের নকশা।
কন্ট্রোল রুমের ফ্লোর লেআউট এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ছবি।
অনুমোদিত সরবরাহকারীদের (Suppliers) তালিকা।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির একটি ১১২ মিলিয়ন ডলারের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বীমা পলিসির (Terrorism Insurance Policy) নথিপত্র।
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এই ডেটা ফাঁসের ফলে কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্ষতিকর কোনো রাষ্ট্র বা হ্যাকার গোষ্ঠী এই নথির সূত্র ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে পারে। এটি ভারতের কর্পোরেট খাতের ভঙ্গুর সাইবার নিরাপত্তাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
অতীতের সাইবার হামলা: কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাইবার হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালেও এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ম্যালওয়্যার (Malware) পাওয়া গিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ফশার্ক (Surfshark)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বৈশ্বিক তালিকায় ভারতের অবস্থান তৃতীয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |