| বঙ্গাব্দ

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-07-2026 ইং
  • 69594 বার পঠিত
১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গভীর শ্রদ্ধা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক

সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশেষ বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বাণী দেন। এ সময় তিনি শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে বৃথা যেতে না দিয়ে দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও স্বৈরাচারের পতন

নিজের বাণীতে ২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিনটির স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:

“২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অকুতোভয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন বীর সন্তান শহীদ হয়েছিলেন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে বুক উঁচিয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের নির্বিচার ও নিষ্ঠুর গুলি করার দৃশ্য দেশের কোটি কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। যার ফলে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি স্বৈরাচারী সরকারের পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। বীর ছাত্র-জনতার সেই অপ্রতিরোধ্য গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করেন।

জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ

১৬ জুলাইকে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল দীর্ঘকাল ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত ও শোষিত একটি জাতির ভয় জয়ের মহাসারক।”

✊ প্রধানমন্ত্রীর বাণীর মূল নির্যাস:
• ১৬ জুলাইয়ের গুরুত্ব: রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে বীর ছাত্র-জনতার ভয় জয়ের প্রতীক।
• আন্দোলনের গভীরতা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ।
• সরকারের অঙ্গীকার: শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান নির্বাচিত সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
• ভবিষ্যৎ রূপরেখা: গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন।

শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি সাধারণ আন্দোলন ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, সীমাহীন দুর্নীতি, গুম, খুন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের জনগণের একটি সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। সেই মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ আজ তাদের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “বর্তমান নির্বাচিত সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ।”

বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকারভিত্তিক একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দেওয়া প্রকৃত সম্মান।” তিনি আবারও গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা প্রতিটি যোদ্ধার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency