| বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা | বিশ্বকাপ ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-07-2026 ইং
  • 12187 বার পঠিত
সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা | বিশ্বকাপ ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

লা আরানিয়া’র হাত ধরেই ইতিহাসের আরও কাছে আলবিসেলেস্তেরা; অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-১ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬

ম্যাচ তখন ক্লান্তির শেষ সীমানায়। দুই দলের ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় চরম অবসাদের ছাপ। স্কোরবোর্ডে ১-১ সমতা। ঘড়ির কাঁটায় অতিরিক্ত সময়ও (Extra Time) ফুরিয়ে আসছে। মাঠের ভেতরে মাত্র ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের লৌহকঠিন ও ইস্পাতদৃঢ় প্রতিরোধে বারবার আটকে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক তখনই, ম্যাচের ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের (Julián Álvarez) জাদুকরী পা থেকে বেরিয়ে এলো দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত, বুলেট গতির শট। চোখের পলকে সুইজারল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে বল ভেতরে।

এক মুহূর্তে যেন পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটল কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে (Kansas City Stadium)। বাঁধভাঙা উল্লাসে ভেসে গেল গোটা আর্জেন্টিনা। যে গোলটি শুধু স্কোরলাইন ২-১ করেনি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে সগৌরবে খুলে দিয়েছিল সেমিফাইনালের দরজা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে পরবর্তীতে লাউতারো মার্তিনেজের (Lautaro Martínez) আরেকটি দৃষ্টিনন্দন গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (Alexis Mac Allister) আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিলেও, ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে (Dan Ndoye) গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে কানসাস সিটির অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর রাতটি শেষ পর্যন্ত নিজের করে নেন আলভারেজ। কিছু গোল কেবল স্কোরবোর্ডের সংখ্যার পাতায় লেখা থাকে, আর কিছু গোল চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে যায় একটি জাতির যৌথ স্মৃতিতে। আলভারেজের ১১২ মিনিটের গোলটি ছিল ঠিক তেমনই এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

কর্দোবার ছোট্ট শহর থেকে বিশ্বজয়ের মহাকাব্য

হুলিয়ান আলভারেজের রূপকথার গল্পটা শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার কর্দোবা প্রদেশের ছোট্ট শহর কালচিনে (Calchín)। ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া এই ফরওয়ার্ডের শৈশবটা বড় কোনো শহরের চাকচিক্যময় আলোয় কাটেনি। ছোট শহরের ধূলোমাখা মাঠ আর ফুটবলের প্রতি অসীম ভালোবাসাই ছিল তাঁর একমাত্র পৃথিবী। ছোটবেলা থেকেই বল যেন তাঁর পায়ের জাদুতে কথা বলত। মাঠের ভেতরে অলৌকিক ক্ষিপ্রতা আর গোলের প্রতি সহজাত তীব্র টানের কারণে শৈশবেই তার অনন্য ডাকনাম হয়ে যায় ‘লা আরানিয়া’ (La Araña) বা মাকড়সা। ভক্তদের বিশ্বাস ছিল, ফুটবল মাঠে তাঁর সাধারণ মানুষের মতো দুটি পা নয়, বরং গোলের সামনে শিকার ধরার জন্য আছে আটটি পা! যেদিকেই বল যাক না কেন, আলভারেজ ঠিকই সেখানে পৌঁছে যাবেন।

স্বপ্নের এই কঠিন পথ তাঁকে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটে। ২০১৬ সালে ক্লাবটির যুব কাঠামোয় যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রথম দলের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ঐতিহাসিক কোপা লিবার্তাদোরেসজয়ী দলের অংশ হয়ে যান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি এই ‘ক্ষুদে মাকড়সা’কে। রিভার প্লেট থেকে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি, সেখান থেকে ২০২৪ সালে রেকর্ড ট্রান্সফারে যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদে। আতলেতিকোর ১৯ নম্বর জার্সির এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে ক্লাবের বর্তমান চুক্তি রয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

ট্রফির ট্রফি-কেস এবং শিরোপা ধরে রাখার মিশন

মাত্র ১৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার আলভারেজের শারীরিক গড়ন আধুনিক ফুটবলের দৈত্যাকার সেন্টার-ফরোয়ার্ডদের মতো নয়। তবে আলভারেজের সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর হলো তার ফুটবলীয় তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক, অতিমানবিক গতি, অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনের ফাঁক গলে জায়গা খুঁজে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। তিনি যেমন গোল করেন, তেমনি নিচে নেমে বল রিসিভ করেন, প্রেসিং ফুটবল খেলেন এবং সতীর্থদের জন্য বক্সে স্পেস তৈরি করে দেন। আতলেতিকো মাদ্রিদও তাকে একজন দ্রুতগতির, অত্যন্ত দক্ষ ও বহুমুখী ফরোয়ার্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারেই আলভারেজের ট্রফির আলমারি দেখলে যেকোনো কিংবদন্তি ফুটবলারও ঈর্ষা বোধ করবেন। রিভার প্লেটের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস, আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ; আর ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ— ফুটবলের সব কটি বড় মঞ্চেই বিজয়ের মহাকাব্য লিখেছেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের সামনে এক নতুন পোস্টার বয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, যেখানে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এসেছে তাদের বিশ্বসেরার শিরোপা ধরে রাখার এক চরম কঠিন ও ঐতিহাসিক মিশনে। ২০২২ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাধারী দলটির সামনে এখন ফুটবল ইতিহাসের অমরত্ব ছোঁয়ার হাতছানি। সেই স্বপ্নের মহাযাত্রায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে যখন পথ কঠিন ও অন্ধকার হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে সামনে এলেন আলভারেজ। ১১২ মিনিট— ফুটবলের ঘড়িতে এটি কেবলই একটি সংখ্যা হতে পারে, কিন্তু আর্জেন্টিনার কোটি ফুটবল ভক্তের কাছে এটি এখন এক অবিরাম মুক্তি ও উল্লাসের নাম।

এক নজরে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের টিকিট (১২ জুলাই, ২০২৬)

  • ১১২ মিনিটের ম্যাজিক গোল: অতিরিক্ত সময়ে সুইসদের দেয়াল ভেঙে আর্জেন্টিনাকে ২-১ এ এগিয়ে নেন হুলিয়ান আলভারেজ

  • লাউতারোর ফিনিশিং টাচ: ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়

  • সুইজারল্যান্ডের ১০ জনের লড়াই: লাল কার্ড পেয়ে ১ জন কম নিয়ে খেললেও ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা

  • ইতিহাসের পাতায় ‘লা আরানিয়া’: কর্দোবা থেকে উঠে আসা আলভারেজের ক্যারিয়ারের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হতে যাচ্ছে আরেকটি সেমির গল্প

  • শিরোপা ধরে রাখার মিশন: ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা জয়ী আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল

খেলাধুলা ডেস্ক | আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ২০২৬, হুলিয়ান আলভারেজ গোল সুইজারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল, লাউতারো মার্তিনেজ ও ফিফা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল লাইনআপ সেল

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করার পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন দেশ লড়বে, আজকের ম্যাচে দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট করে লিওনেল মেসি নতুন কী রেকর্ড গড়লেন এবং ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency