আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
ইরানের পাঁচটি কৌশলগত প্রদেশে মার্কিন বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক দফায় দফায় ও ভয়াবহ বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পূর্ণ স্থবির ও ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন করে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।
কাতারি কূটনীতিকদের এই আকস্মিক তেহরান সফরের খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ প্রদেশে চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বেসামরিক কারিগরি কর্মকর্তাও রয়েছেন।
মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) মূলত উত্তর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক, পারস্য উপসাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের সামুদ্রিক নজরদারি কেন্দ্র এবং প্রধান রেলওয়ে অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই নিখুঁত ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো পরিচালনা করে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাম্প্রতিক আগ্রাসী হামলা দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকে থাকা পারস্পরিক চরম অবিশ্বাস ও কূটনৈতিক দূরত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো (NATO) সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ওই সম্মেলনে ট্রাম্প একতরফাভাবে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটি (MOU) সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেন। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া এই সমঝোতা কোনো পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি; বরং এটি ছিল স্রেফ ‘প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুতি’ রক্ষা করার একটি কৌশলগত বিষয়, যা ট্রাম্প নিজেই ভেঙে দিয়েছেন।
উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে ওঠার পেছনে ট্রাম্পের আরেকটি বড় প্রতিশ্রুতির বরখেলাপকে দায়ী করছে তেহরান। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা ও দাফনকার্য চলাকালীন কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজের দেওয়া সেই আন্তর্জাতিক কথা ভঙ্গ করেছেন। পবিত্র মাশহাদ শহরে যখন সর্বোচ্চ নেতার দাফন কার্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হচ্ছিল, ঠিক সেই শোকাবহ মুহূর্তেই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে এই বর্বরোচিত বিমান হামলা পরিচালনা করে, যা ইরানিদের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। এমন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই কাতার চাচ্ছে দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করতে।
কাতারের জরুরি মিশন: মার্কিন হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি: ইরানের ৫ প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত, লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমানবন্দর ও রেললাইন।
দাফনের মাঝেই হামলা: আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন চলাকালীন হামলা না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণের অভিযোগ তেহরানের।
সমঝোতা বাতিল: ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বাতিল করায় চুক্তিটিকে ‘অর্থহীন’ বলছে ইরান।
অবিশ্বাসের দেয়াল: মার্কিন আগ্রাসনে দুই দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে ঠেকেছে, কাতারের জন্য আলোচনা শুরু করা বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ২০২৬, কাতারের মধ্যস্থতা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন সেল
ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের লাইভ আপডেট, কাতারের মধ্যস্থতা প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করবেন কিনা এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং ও লাইভ নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |