আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬
আর্জেন্টিনায় একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেছে নজিরবিহীন ও হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। মাঝ আকাশে চলন্ত বিমান থেকে হঠাৎ করেই লাফিয়ে নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক ফ্লাইট প্রশিক্ষক। এমন চরম আকস্মিক ও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে মাত্র ২২ বছর বয়সি এক শিক্ষানবিশ একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোমহর্ষক ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে। যদিও মূল ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার।
নিহত ওই অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিমান চালনার ক্ষেত্রে বেশ সুপরিচিত ও দক্ষ ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ‘সেসনা ১৫০’ (Cessna 150) মডেলের একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমানে ২২ বছর বয়সি শিক্ষার্থী রোজারিওকে নিয়ে আকাশ উড্ডয়নে ছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের দেওয়া জবানবন্দিতে বেঁচে ফেরা শিক্ষার্থী রোজারিও জানান, মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই তার প্রশিক্ষক বেরতাজ্জো নিজের মাথা থেকে হেডসেট খুলে ফেলেন এবং শরীরের সিটবেল্ট অবমুক্ত করেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি রোজারিওর দিকে তাকিয়ে শীতল কণ্ঠে বলেন, "তুমি জানো তোমাকে এখন কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।" এই কথাটি বলেই তিনি চলন্ত বিমান থেকে সরাসরি শূন্যে ঝাঁপ দেন। পরে উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ভূমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত লিয়ান্দ্রো বেরতাজ্জো আর্জেন্টিনার ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ নামের একটি নামী ফ্লাইং স্কুলে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বেরতাজ্জো অত্যন্ত প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও ইতিবাচক একজন মানুষ ছিলেন। এমনকি ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। ফলে দুপুরের ফ্লাইটে তিনি কেন এমন চরম ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান ও দেশটির এভিয়েশন সেক্টরের সবাই গভীরভাবে বিস্মিত।
আলভারেজের ভাষায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা কোনো গাড়ির দরজা খোলার মতোই তীব্র বাতাসের মধ্যে চলন্ত বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে পাশে রেখেই তিনি কেন হুট করে এমনটা করলেন, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, চোখের সামনে প্রশিক্ষকের এমন স্তম্ভিত করা আচরণ ও মৃত্যুর দৃশ্য দেখে রোজারিও প্রথমে পুরোপুরি হতভম্ব ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের মাত্র কয়েক দিনের সীমিত অভিজ্ঞতা ও মানসিক শক্তি নিয়ে তিনি দ্রুত বিমানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন এবং সফলভাবে এয়ারপোর্টের রানওয়েতে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, লিয়ান্দ্রো বেরতাজ্জো শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ চিলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পেশাগত অসাধারণ দক্ষতার জন্য বৈমানিক মহলে সুপরিচিত ছিলেন।
মাঝ আকাশে ট্র্যাজেডি: আর্জেন্টিনায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালীন চলন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের আত্মহত্যা।
শেষ উক্তি: ঝাঁপ দেওয়ার আগে ২২ বছর বয়সি ছাত্রকে ট্রেইনার বলেন— "তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।"
শিক্ষার্থীর অলৌকিক রক্ষা: চরম আতঙ্কের মাঝেও মাত্র ২২ বছর বয়সি শিক্ষানবিশ ছাত্র একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।
তদন্তে চাঞ্চল্য: নিহত লিয়ান্দ্রো বেরতাজ্জো (৪২) অত্যন্ত হাসিখুশি মানুষ ছিলেন, কেন এই আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য।
বিমানের মডেল: ঘটনাটি ঘটেছিল দুই আসন বিশিষ্ট ‘সেসনা ১৫০’ মডেলের একটি হালকা প্রশিক্ষণ বিমানে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আর্জেন্টিনার বিমান দুর্ঘটনা, সেসনা ১৫০ বিমান, ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা ও লিয়ান্দ্রো বেরতাজ্জো আত্মহত্যা সেল
আর্জেন্টাইন বিমান কর্তৃপক্ষ এই আত্মহত্যার ঘটনার পর ফ্লাইং স্কুলের নিরাপত্তা প্রটোকলে কোনো নতুন নিয়ম আনল কিনা, বেঁচে যাওয়া ছাত্র রোজারিওকে কোনো বিশেষ বীরত্ব সূচক সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |