| বঙ্গাব্দ

কারাদণ্ড ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০২৭ সালের নির্বাচনে লড়বেন মেরিন লে পেন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-07-2026 ইং
  • 3721 বার পঠিত
কারাদণ্ড ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০২৭ সালের নির্বাচনে লড়বেন মেরিন লে পেন
ছবির ক্যাপশন: মেরিন লে পেন

প্যারিস আপিল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাচ্ছেন লে পেন; আইনি সংকটের মাঝেই ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬

ভয়াবহ আইনি সংকটের মুখে পড়ার পরও আগামী ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’র (RN) প্রভাবশালী নেত্রী মেরিন লে পেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় প্যারিস আপিল আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পরপরই লে পেনের এমন চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড়, আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় গত ৭ জুলাই (২০২৬) প্যারিস আপিল আদালত মেরিন লে পেনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, লে পেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এক বছর তাঁকে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেটের মাধ্যমে কড়া নজরদারির আওতায় সাজা ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের এই রায়ের ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার (শাস্তিস্বরূপ) মুখোমুখি হতে হয়েছে এই ডানপন্থি নেত্রীকে।

লড়াইয়ের ঘোষণা ও ক্যাসেশন কোর্টে আপিল

প্যারিস আদালতের এই বড় ধাক্কার পরও রাজনীতি বা নির্বাচনী ময়দান থেকে পিছু হটছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেরিন লে পেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত ‘ক্যাসেশন কোর্টে’ (Cassation Court) আপিল করার আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের সমান্তরালে ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে তিনি ও তাঁর দল এখন থেকেই এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল ব্যবহারের মারাত্মক অনিয়ম। অভিযোগে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থ থেকে সহকারী হিসেবে যে বেতন দেওয়া হয়েছিল, তা এমন কিছু ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো অফিশিয়াল দায়িত্বই পালন করতেন না। মেরিন লে পেন ও তাঁর দল অবশ্য প্রথম থেকেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, লে পেনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা রুখতেই এই মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।

অভিবাসন নীতি ও ফরাসি রাজনীতির নতুন সমীকরণ

ফ্রান্সের রাজনীতিতে মেরিন লে পেনের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়টি হলো তাঁর চরমপন্থী ‘অভিবাসন নীতি’। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ফরাসি জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষার পক্ষে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করছেন। ফ্রান্সের আমজনতার একটি বড় অংশ যারা অভিবাসন, নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন, লে পেন মূলত সেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, তাঁর এই নীতির কড়া সমালোচক ও বিরোধীরা মনে করেন— লে পেনের অভিবাসন নীতি অতিরিক্ত কঠোর এবং এটি ফরাসি সমাজে তীব্র বিভাজন ও বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না। ফলে এলিসি প্রাসাদের নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ে মেরিন লে পেন অন্যতম প্রধান ও আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যালটে নিজের নাম ধরে রাখতে পারেন কিনা— সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এক নজরে লে পেনের সাজা ও ফরাসি রাজনীতি (৮ জুলাই, ২০২৬)

  • আদালতের রায়: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ কেলেঙ্কারিতে মেরিন লে পেনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিল প্যারিস আপিল আদালত

  • বিশেষ সাজা: সাজার অংশ হিসেবে ১ বছর ইলেকট্রনিক ব্রেসলেটের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকতে হবে লে পেনকে

  • নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা: কারাদণ্ডের পাশাপাশি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তাঁকে।

  • পাল্টা চ্যালেঞ্জ: রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালত ক্যাসেশন কোর্টে আপিল ও ২০২৭-এর নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা লে পেনের

  • রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তৃতীয় মেয়াদে লড়তে পারবেন না বিধায় ফ্রান্সের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইউরোপীয় রাজনীতি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৭ ও কট্টর ডানপন্থি সেল

প্যারিস আপিল আদালতের এই রায়ের পর ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বা ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো কিনা, ক্যাসেশন কোর্টে আপিল করার পর লে পেনের সাজার ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ (Stay Order) মিলবে কিনা এবং ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সব এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency