ইসরায়েলি বিমান হামলায় দামেস্কে ইসলামিক জিহাদের ভবন লক্ষ্য
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী একটি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের একটি ভবনকে লক্ষ্য করে। হামলা সিরিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় সংঘটিত হওয়ায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার ফলে বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার পর দামেস্কের এই আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমান হামলার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসলামিক জিহাদের গোষ্ঠীর একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক জিহাদ একটি ফিলিস্তিনি সংগঠন যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে থাকে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এই হামলা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির অস্ত্রাগার এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিমান হামলায় আক্রান্ত এলাকায় অবস্থিত ভবনগুলোর মধ্যে কিছু আবাসিক ভবনও ছিল, যা সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হত। হামলার পর বহু বাড়ির জানালা ও দরজা ভেঙে যায়, এবং কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনকতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পূর্ববর্তী হামলা ও সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলের কার্যক্রম
এটি প্রথম হামলা নয়, এর আগে গত সোমবারও সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ দেরার বিভিন্ন এলাকায় ১৭ দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইসরায়েল এবং সিরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায়, ২০১১ সাল থেকে সিরিয়া গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল একাধিক বার সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার পতনের পর থেকে, ইসরায়েল সিরিয়ায় তার শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ব্যাপারে আরও অধিক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গোপন গুদাম ও অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরায়েলের কৌশল ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছে, বিশেষ করে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদসহ শিয়া মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা দাবি করেছে যে, সিরিয়াতে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী তাদের সেনাবাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাই, ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে তাদের হুমকির উৎসগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, সিরিয়া এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ বলে অভিযোগ করছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের এসব হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বিমান হামলার পর পরিস্থিতি
বিমান হামলার পর দামেস্কের আবাসিক এলাকায় জনজীবন কিছুটা স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরুর আগে বেশ কয়েকটি শব্দ শোনা গিয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে এবং ভবনগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল-সিরিয়া সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ 전망
ইসরায়েল এবং সিরিয়ার সম্পর্ক বহু বছর ধরে টানাপোড়েনপূর্ণ। ইসরায়েল এবং সিরিয়া ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। সিরিয়া যখন থেকে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে, তখন থেকে ইসরায়েল সিরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
ইসরায়েলের লক্ষ্য, সিরিয়াতে স্থিতিশীলতা না থাকলে তাদের শত্রু শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানো সহজ হবে এবং সিরিয়া যাতে ইরান এবং তার সহযোগীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করতে না পারে, সেজন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে সিরিয়া এবং তার মিত্ররা এ ধরনের হামলা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |