নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলে আসা রহস্য ও বিতর্ক নিরসনে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) আদালতের নির্দেশনায় নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনার আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জারিকৃত আদেশের আলোকে, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে টুটপাড়া কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সময় পুলিশ ও পিবিআইয়ের সদস্য ছাড়াও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি। তিনি তখন খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলেন। কচি এর প্রতিবাদ করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলিয়া কামিল মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার কচির গলা চেপে ধরেন এবং তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নির্বাচনের দিন এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। তৎকালীন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শুরু থেকেই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে, তৎকালীন জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছেন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে কোনো বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। এমনকি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও সেসময় বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনা না দেখার কথা বলেছিলেন।
এই ঘটনার কিছুদিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
মামলার বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন:
“নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে হট্টগোল দেখেছি। কচির ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। মহিবুজ্জামান কচি খুলনার রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিয়ে দুই পক্ষের দুই ধরনের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতেই এই ময়নাতদন্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন করে করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এখন এই মামলার তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনা: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে মৃত্যু হয় বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির।
মামলার অভিযোগ: মামলার বাদি অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ গলা চেপে ধরাই ছিল কচির মৃত্যুর কারণ।
লাশ উত্তোলন: ঘটনার ৫ মাস পর আদালতের নির্দেশে টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা: বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই (PBI) তদন্ত করছে।
বর্তমান অবস্থা: ময়নাতদন্তের রিপোর্টই নির্ধারণ করবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু।
নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা ব্যুরো, অপরাধ জগত ও রাজনীতি সেল
ময়নাতদন্তের ফরেনসিক রিপোর্ট কবে নাগাদ পিবিআই-এর কাছে পৌঁছাবে, মামলার মূল বিবাদী তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার কোথায় আছেন, পিবিআই তদন্তের সর্বশেষ আপডেট এবং খুলনা বিএনপির পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির সবশেষ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |