কলকাতা ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চরম ও নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর একের পর এক রাজনৈতিক ধাক্কা সামলাতেও নিজের চিরচেনা অনমনীয় ও লড়াকু মনোভাব বজায় রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অধিকাংশ বিধায়ক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করার এবং লোকসভা সাংসদদের একটি শক্তিশালী তৃতীয় ব্লক তৈরি করে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবির আইনি লড়াই শুরু করার পর, রাজনৈতিক বিদ্রোহীদের তীব্র ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মমতা।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে থামাতে হলে বিরোধীদের তাকে শারীরিকভাবে হত্যা করতে হবে। দলীয় বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জোড়া ফুল প্রতীক এবং দলের মূল নিয়ন্ত্রণ তার এবং তার প্রতি অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। মমতার এমন অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে বিদ্রোহীদের নির্বাচন কমিশন ও আদালতে একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। দলীয় প্রতীক কোথাও যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাকে থামাতে হলে তোমাদের আমাকে মেরে ফেলতে হবে।”
শনিবার (৪ জুলাই) তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একটি বড় ধাক্কা খান, যখন তার প্রতি অনুগত অন্যতম শীর্ষ নেত্রী ও দলের দীর্ঘদিনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিদ্রোহী শিবিরে চন্দ্রিমাকে দেখা যায়, যাদের সমর্থকরা গত শুক্রবার কলকাতার ই এম বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূলের মূল বহুতল কার্যালয় (তৃণমূল ভবন) জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিল।
চন্দ্রিমার এই নাটকীয় পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আগেই তাকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা গোপনে জানিয়েছিলেন, কারণ চন্দ্রিমার ছেলেও এর আগে তৃণমূল বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আসা কোনো ‘উপদেষ্টা’ বা সম্মানসূচক পদের প্রস্তাব তিনি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনোই বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, মূলত কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভীতি ও চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল ছেড়ে চলে গেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বা আমার দল বিজেপির কোনো চাপের কাছে মাথা নত করব না।”
গত শুক্রবার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন:
“যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে তালা লাগিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই—আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম এবং ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের লিজ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে দল ছাড়তেই পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে দল নামক প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি দলের আইনগত সম্পত্তি, আমি বা অন্য কেউ জোর করে ‘মা, মাটি, মানুষ'-এর এই পবিত্র সম্পত্তি দখল করতে পারে না।”
২০১১ সালে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের প্রবল বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা এই অগ্নিস্বভাবা নেত্রী মনে করিয়ে দেন, তৃণমূলের মূল আদর্শ পুরোপুরি বিজেপি বিরোধী। তিনি দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, “এই জোড়া ফুল প্রতীক আমার নিজের রক্ত-ঘামে দেওয়া। ২০blank সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমি নিজেই আপনাদের প্রত্যেকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম। নির্বাচনের মাত্র দুই মাসের মধ্যে আপনারা কীভাবে এমন চরম বিশ্বাসঘাতক হলেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আপনারা এখন ক্ষমতার লোভে বিজেপির সাথে আছেন, কিন্তু তৃণমূলের মূল বিজেপি-বিরোধী আদর্শের কারণে এটা এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না।”
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাটকীয় বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিচ্ছেন এবং তার কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই এখন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্য নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই মূলত দলে এই ঐতিহাসিক ভাঙন শুরু হয়, যেখানে বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে মমতার একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তার ভাইপো ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও খবরদারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইতোমধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক (MLA) এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ (MP) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়েছেন, যা মমতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংকট। পদত্যাগের পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা আজীবন থাকবে, তবে দলে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও আস্থার চরম অভাবের কারণেই তিনি এই কঠিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মমতার চ্যালেঞ্জ: বিদ্রোহীদের হুঙ্কার দিয়ে বললেন—আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে।
বড় দলত্যাগ: দল ছাড়লেন মমতার বিশ্বস্ত নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
বিদ্রোহের নেতৃত্ব: ৬০ বিধায়ক ও ২০ সাংসদ নিয়ে আসল তৃণমূলের দাবি তুলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কার্যালয় বদল: বাইপাসের অফিস হাতছাড়া হওয়ায় মমতার কালীঘাটের বাসভবনই এখন তৃণমূলের মূল কার্যালয়।
ভাঙনের মূল কারণ: ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর দলের একাংশের তীব্র ক্ষোভ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ভারতের রাজনীতি ও পশ্চিমবঙ্গ ব্যুরো
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বাকি বিধায়কদের দলত্যাগ রুখতে কালীঘাটের জরুরি স্ট্র্যাটেজি বৈঠকের লাইভ আপডেট, নির্বাচন কমিশনে (ECI) জোড়া ফুল প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে ঋতব্রত বনাম মমতা শিবিরের আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নবান্নে নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও দিল্লির তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |