রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক জোটের অধীনে নয়, বরং সম্পূর্ণ এককভাবে অংশ নেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। মূলত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মজবুত ও শক্তিশালী করতেই এই একক নির্বাচনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ স্তরের নীতি-নির্ধারকেরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মঞ্চে বা জোটবদ্ধভাবে করার জোর গুঞ্জন থাকলেও, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত স্পষ্টত আলাদা পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। দল দুটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে আলাদাভাবে নিজেদের একক প্রার্থীও ঘোষণা করছে। নতুন দলটির এই অনমনীয় সিদ্ধান্তে তাদের ১১ দলীয় জোটে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে কৌশলগত কারণে কেবল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে একটি ‘সীমিত ঐক্য’ বা সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“এনসিপি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের এককভাবে নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আছে। এজন্য আমরা তৃণমূলে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছি।”
আসিফ মাহমুদ আরও জানান, স্থানীয় নির্বাচনও ঐক্যের ব্যানারে হোক—এমনটা জোটের কেউ কেউ চাচ্ছেন, আবার অনেকেই নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের জন্য আলাদা নির্বাচনের পক্ষে মতপ্রকাশ করছেন। তবে এই বিষয়ে বড় দুই দলের মধ্যে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, “একক নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বহু প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আমরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছি। ৫টি সিটিতে ইতোমধ্যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে, বাকি ৭টিতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। এ ছাড়া উপজেলা ও পৌরসভায় আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, একক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের নিজস্ব সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছার বড় সুযোগ হবে।”
এনসিপির অভ্যন্তরীণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে একদম তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদেও তারা নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করাবে। দলটির এবারের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের চমক থাকছে। বিশেষ করে বিএনপি কিংবা অন্যান্য বড় দল থেকে বহিষ্কৃত, উপেক্ষিত কিংবা স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো জনপ্রিয় স্থানীয় নেতারাও এখন এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন এবং তাদের নামও দলটির প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
এনসিপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, তৃণমূলের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা চমকপ্রদ ফলাফল করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র এবং ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে তাদের অফিশিয়াল প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেছে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাঠপর্যায়ে দলকে দ্রুত শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী ও ক্লিন ইমেজের স্থানীয় নেতাদের টার্গেট করে দলে ভেড়ানো হচ্ছে।”
এদিকে আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে চলছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মনে এক ধরনের নীরব দ্বন্দ্ব বা স্নায়ুযুদ্ধ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণে জামায়াত তাদের অন্যতম তরুণ মুখ ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী করতে চাইছে। কয়েক মাস আগে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রার্থী হিসেবে তার নাম অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলা হয়নি, তবে এর অনেক আগেই এনসিপির পক্ষ থেকে তাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণের একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং কুমিল্লা সিটির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি মেয়র নির্বাচনে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মাঠের প্রচারণা চলছে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু সন্ত্রাসী ও অপশক্তি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আমরা মনে করেছিলাম নতুন সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত পূর্ণাঙ্গ উন্নতি হবে, কিন্তু দিন দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”
অন্য দিকে, দলের একাংশের মধ্যে এই রাজনৈতিক লাইন নিয়ে অসন্তোষও দানা বাঁধছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির সাবেক শীর্ষ এক নারী নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এনসিপির শীর্ষ নেতারা মুখে একক নির্বাচনের কথা বললেও, দিনশেষে তারা পুরোপুরি ডানপন্থি লাইনে হেঁটে জামায়াতের স্বার্থই রক্ষা করছেন। শেষ পর্যন্ত তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনেই যাবে। আর তেমনটা হলে দল থেকে আরও অনেক প্রগতিশীল ও শীর্ষ নেতা চিরতরে পদত্যাগ বা অব্যাহতি নেবেন।”
নির্বাচনী অবস্থান: কোনো জোটের অধীনে নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি।
মূল লক্ষ্য: একক প্রার্থিতার মাধ্যমে দেশজুড়ে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও তৃণমূল ভিত্তি যাচাই।
মনোনয়ন চমক: দেশের বিভিন্ন বড় দল থেকে বহিষ্কৃত বা সরে দাঁড়ানো প্রভাবশালী নেতারা যোগ দিচ্ছেন এনসিপিতে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির দ্বন্দ্ব: একই আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং এনসিপির প্রার্থী আসিফ মাহমুদ।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দলের আদর্শিক লাইন পরিবর্তন ও জামায়াত-ঘেঁষা নীতির অভিযোগে এনসিপিতে ভাঙনের শঙ্কা একাংশের।
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ জাতীয় রাজনীতি ও নির্বাচন সেল
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (EC) সর্বশেষ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ, ১১ দলীয় জোটের আগামী জরুরি বৈঠকের আসন সমঝোতার লাইভ আপডেট, নির্বাচন বর্জন বা অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপির হাই কমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |