স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহানায়ক ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা শুধু মাঠের জাদুকরী নৈপুণ্যের জন্যই অমর হয়ে নেই, বরং ফুটবল বিশ্বকে নিয়ে তাঁর স্পষ্টভাষী, নির্ভীক এবং দূরদর্শী মন্তব্যগুলোর কারণেও তিনি বরাবরই আলোচিত ছিলেন। ২০২০ সালে ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে ওপারে চলে গেলেও, ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর আট বছর পুরোনো একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ এবং আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতি নিয়ে ম্যারাডোনা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমান ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে ঠিক তার হুবহু প্রতিফলন দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
২০১৮ সালের সেই সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ এবং মার্কিন করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাব ফুটবলের চিরন্তন ঐতিহ্য ও আত্মাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।"
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে তীব্র গরমের কারণে ম্যাচগুলোতে অফিশিয়াল ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ (Hydration Break) বা পানি পানের বিরতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ফুটবল ভক্ত ও বিশ্লেষক অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, খেলোয়াড়দের পানি পানের সেই ছোট্ট বিরতিটুকুকেও ছাড় দিচ্ছে না সম্প্রচারকারী টিভি চ্যানেলগুলো; সেখানেও দেদারসে চালানো হচ্ছে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন। ভক্তদের মতে, ম্যারাডোনা ৮ বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে আমেরিকায় ফুটবল এলে করপোরেট কোম্পানিগুলো খেলার চেয়ে ব্যবসার দিকেই বেশি ঝুঁকবে।
ম্যারাডোনা সেই সময় ফুটবল ইতিহাস থেকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন:
"আমেরিকার করপোরেট মানসিকতা বুঝতে হলে ১৯৯৪ সালের মার্কিন বিশ্বকাপে ফিরে যেতে হবে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ফিফার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল—ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ৯০ মিনিটের ম্যাচকে ৪৫ মিনিট করে দুই অর্ধে ভাগ না করে, আমেরিকান ফুটবলের মতো ২৫ মিনিট করে মোট চারটি 'কোয়ার্টারে' ভাগ করার জন্য। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল যেন ম্যাচের মাঝে বেশি বেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করা যায়।"
যদিও বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফিফা তখন সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই বাণিজ্যিক সম্প্রচারের আগ্রাসনই দেখা যাচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে যখন উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনও বেঁচে থাকা অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশেষ করে মেক্সিকোর ফুটবলীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ম্যারাডোনা সরাসরি বলেছিলেন, "মেক্সিকো একক বা যৌথভাবে এই মেগা আসর পাওয়ার যোগ্যই নয়। তাদের ফুটবলের ইতিহাস তো আমরা জানি; তারা যখনই নকআউট পর্বে জার্মানি বা ব্রাজিলের মতো কোনো শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তির মুখোমুখি হয়, সেখানেই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান তল্পিতল্পাসহ শেষ হয়ে যায়।"
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর স্পষ্ট ভাষ্য ছিল, আমেরিকানদের রক্তে বা সংস্কৃতিতে ফুটবল নিয়ে প্রকৃত আবেগের তীব্র ঘাটতি রয়েছে, তারা ফুটবলকে স্রেফ বিনোদন মনে করে। আর শীতপ্রধান দেশ কানাডাকে নিয়ে ডিয়েগো রসিকতা করে বলেছিলেন, "কানাডিয়ানরা ফুটবল কী খেলবে! ওরা বড়জোর বরফের ওপর ভালো স্কিয়ার (Skier) হতে পারে।"
ম্যারাডোনার মৃত্যুর কয়েক বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর সেই সব পুরোনো ভবিষ্যৎবাণী ও কঠোর মন্তব্যগুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Social Media) এবং বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, ডিয়েগো ম্যারাডোনা শুধু খেলাটাই বুঝতেন না, ফুটবলের ভবিষ্যৎও পড়তে পারতেন।
মূল ঘটনা: ২০১৮ সালে দেওয়া ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে হুবহু মিলে গেছে।
বাণিজ্যিকীকরণ: ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর সুযোগে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখে ম্যারাডোনার দূরদর্শিতার প্রশংসা।
ঐতিহাসিক তথ্য: ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যাচকে ৪টি কোয়ার্টারে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মেক্সিকোকে কটাক্ষ: বড় দলের সামনে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় বলে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল আবেগের অভাব এবং কানাডিয়ানরা ভালো স্কিয়ার বলে মন্তব্য করেছিলেন ডিয়েগো।
স্পোর্টস ডেস্ক | ফুটবল ক্লাসিক ও বিশ্বকাপ ইতিহাস বিভাগ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তর আমেরিকা পর্বের স্টেডিয়ামগুলোর বাণিজ্যিক চুক্তি, ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর আর্কাইভ ভিডিও, আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচের একাদশ ঘোষণা এবং বিশ্ব ফুটবলের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |