আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পাল্টাপাল্টি জের ধরে পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসনের জন্য ওয়াশিংটনকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া জবাবের’ (Crushing Response) মুখে পড়তে হবে বলে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর আল জাজিরার (Al Jazeera) এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই নতুন রণংদেহী বিবৃতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জোরালো দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz)-তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির একক দায়িত্ব তেহরানের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, "এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি কঠোর ও আগ্রাসী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছে, যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন—যেমন গত কয়েক দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বেআইনি বিমান হামলা—ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে চরম চূর্ণবিচূর্ণ জবাবের মুখোমুখি হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হোয়াইট হাউস কর্তৃক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করা মূলত দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) সম্পূর্ণ পরিপন্থি। মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি তাদের এই উসকানিমূলক আচরণ বন্ধ না করে, তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য প্রক্রিয়া পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
টানা ২ দিন মার্কিন হামলা: অপরদিকে, ওয়াশিংটনের নির্দেশে পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বাড়িয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের মূল ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটিতে ভারী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী। ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সরাসরি জবাব দিতেই এই বিশেষ ও জরুরি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জো বাইডেন প্রশাসন।
मध्यপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক অপারেশন পরিচালনাকারী ও তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্টাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিশেষ প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশেই ইরানি সামরিক বাহিনীর ওপর এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকম তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে:
"আন্তর্জাতিক নৌপথে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার পরিপন্থি হয়ে ইরানের ধারাবাহিক অবৈধ আগ্রাসনের উপযুক্ত ও কড়া জবাব দিতেই আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলা চালিয়েছে।"
মার্কিন পেন্টাগনের দাবি, তাদের এই নিখুঁত ও বড় ধরনের বিমান হামলায় ইরানের উপকূলীয় সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা (Air Defense Batteries), দূরপাল্লার ড্রোন সংরক্ষণাগার বা বাঙ্কার এবং হরমুজ প্রণালির সমুদ্রে গোপনে মাইন পাতা সক্ষমতার (Mine-laying Capabilities) প্রধান প্রধান ঘাঁটিগুলোকে সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার জেরে পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ রুটে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের মেঘ দানা বাঁধছে।
মূল ঘটনা: ওমান উপকূলে জাহাজে হামলার জেরে ইরানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মার্কিন বিমান হামলা।
মার্কিন দাবি: সেন্টকম (CENTCOM) কর্তৃক ইরানের ড্রোন ঘাঁটি, রাডার ও সমুদ্র মাইন স্থাপনা ধ্বংসের দাবি।
আইআরজিসির হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ জবাব দেওয়ার কড়া নোটিশ।
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ: অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকার দাবি আইআরজিসির।
চুক্তি ভঙ্গের হুমকি: মার্কিন হামলা বন্ধ না হলে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (MoU) বাতিলের আলটিমেটাম।
বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেন্টকমের (CENTCOM) পরবর্তী সামরিক রণকৌশল, তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের লাইভ আপডেট এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |