অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
তীব্র তারল্য সংকট (Liquidity Crisis) কাটিয়ে উঠতে দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’কে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ আপদকালীন ধার বা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রবিবার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তহবিল থেকে ইসলামী ব্যাংককে এই বড় অঙ্কের নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখা এবং আমানতকারীদের চাহিদামতো ক্যাশ বা নগদ টাকা প্রদানের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্ট ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটির ভেতরে ও বাইরে চরম অস্থিরতা ও উত্তেজনা শুরু হয়। বিতর্কিত এই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে সাধারণ গ্রাহক ও আন্দোলনকারীরা টানা বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে এই নজিরবিহীন অস্থিরতার জেরে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে এক ধরনের চরম আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি হয়। ফলে গত কয়েক দিনে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক একযোগে তাঁদের জমা রাখা আমানতের টাকা তুলে নেওয়া (Bank Run) শুরু করেন।
হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উত্তোলনের এই হিড়িকের কারণে ব্যাংকটিতে চরম তারল্য সংকট দেখা দেয় এবং অনেক শাখাতেই সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক টাকা দিতে ব্যর্থ হতে শুরু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমনকি এই সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হওয়া ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা ‘সিআরআর’ (CRR) রক্ষা করতেও ব্যর্থ হয় ইসলামী ব্যাংক।
এই চরম সংকটজনক ও দেউলিয়া পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা বা ‘লিকুইডিটি সাপোর্ট’ চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়। সেই আবেদনের প্রথম কিস্তি বা জরুরি রেসপন্স হিসেবে আজ আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও হস্তান্তর করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) সরকারের নতুন অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী এক হাই-প্রোফাইল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলাম ইসলামী ব্যাংকে এই বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
সে সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, “ইসলামী ব্যাংকের এই সাময়িক সংকট খুব দ্রুত কেটে যাবে। আমরা ব্যাংকটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যাক-আপ দিচ্ছি। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে তাদের কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না।” কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা ইনজেকশনের ফলে ইসলামী ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ের লেনদেন পরিস্থিতি আজ থেকেই স্বাভাবিক হতে শুরু করবে বলে আশা করছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |