| বঙ্গাব্দ

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ বর্গফুটের ঘরে!

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-06-2026 ইং
  • 8048 বার পঠিত
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ বর্গফুটের ঘরে!
ছবির ক্যাপশন: ইলন মাস্ক

‘ফ্রিজে খাবার নেই, গ্যারেজে ঘুমিয়েছি’: ট্রিলিয়নিয়ার ছেলের সাধারণ জীবন নিয়ে মা মায়ে মাস্কের বিস্ফোরক তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬

বিশ্বের সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (Trillionaire) বা ১ লক্ষ কোটি ডলারের অতিমানবীয় সম্পদের মালিক হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি টাইকুন ইলন মাস্ক। তাঁর মালিকানাধীন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX) শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত বা আইপিওতে (IPO) আসার পর পরই মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এই অবিশ্বাস্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে। তবে কল্পনাতীত এই অগাধ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও বাসস্থান সাধারণ মানুষকে চরমভাবে চমকে দিয়েছে।

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের এই এক নম্বর শীর্ষ ধনীর অবিশ্বাস্য সম্পদ ও তাঁর অতি সাধারণ লাইফস্টাইলের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

স্পেসএক্সের আইপিওতে সম্পদের নতুন বিশ্বরেকর্ড

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের বহুল প্রতীক্ষিত আইপিও উন্মোচন করা হয়। প্রথম দিনেই কোম্পানিটির ৫৫ কোটিরও বেশি শেয়ার প্রতিটি ১৩৫ মার্কিন ডলার দরে চোখের পলকে বিক্রি হয়ে যায়। এর মাধ্যমে স্পেসএক্স বাজার থেকে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার নগদ তহবিল সংগ্রহ করে এবং কোম্পানির মোট বাজারমূল্য (Market Cap) দাঁড়ায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

এর ঠিক পরদিন শুক্রবার বাজার খোলার সাথে সাথে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও প্রায় ২০ শতাংশ লাফিয়ে বেড়ে ১৬২ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা (Tesla)-তে থাকা ইলন মাস্কের নিজস্ব শেয়ারের সামগ্রিক মূল্য হিসাব করে তাঁর মোট ব্যক্তিগত নিট সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলার (১,০০০,০০০,০০০,০০০ ডলার) ছাড়িয়ে যায়, যা মানব ইতিহাসের প্রথম ঘটনা।

থাকেন মাত্র ২০ ফুট বাই ২০ ফুটের প্রিফ্যাব ঘরে

হাতে আলাদিনের চেরাগ বা পৃথিবীর সব সম্পদ থাকলেও ইলন মাস্কের প্রধান বাসস্থান কোনো রাজপ্রাসাদ বা বিলাসবহুল পেন্টহাউস নয়; বরং একটি সাধারণ ছোট্ট প্রিফ্যাব (পূর্বনির্মিত বা রেডিমেড) বাড়ি। ২০২০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে টেক্সাসে চলে যাওয়ার পর তিনি তাঁর আগের প্রায় সবকটি মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের রাজকীয় বাড়ি বিক্রি করে দেন।

বর্তমানে টেক্সাসের বোকা চিকা এলাকায় স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের ঠিক পাশেই একটি অত্যন্ত সাধারণ সস্তা বাড়িতে দিন কাটছে এই ট্রিলিয়নিয়ারের। নিজের এই বাড়ি নিয়ে ২০২১ সালে মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) লিখেছিলেন, “আমার প্রধান বাসা মূলত ৫০ হাজার ডলারের (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) একটি খুপরি বাড়ি, যা আমি নিজেই আমার কোম্পানি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। তবে ছোট হলেও এটি দারুণ।”

বাড়িটি নির্মাণ করেছে আবাসন খাতের জনপ্রিয় মার্কিন স্টার্টআপ ‘বক্সঅ্যাবল’ (Boxabl)। পুরো বাড়িটির আয়তন মাত্র ২০ ফুট × ২০ ফুট (৪০০ বর্গফুট)। এই এক কামরার ঘরেই রয়েছে একটি ছোট বসার জায়গা, শোবার ঘর, একটি সাধারণ রান্নাঘর এবং একটি গোসলখানা। ২০২৩ সালে মাস্কের অফিশিয়াল জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন এই বাড়ির ভেতরের একটি ছবি প্রকাশ করে এটিকে ‘অত্যন্ত সাধারণ দুই বেডরুমের প্রোডাক্টিভ ঘর’ বলে বর্ণনা করেন, যেখানে একটি সস্তা কাঠের টেবিলে বসে রাত-দিন দুনিয়া কাঁপানো সব ফোনকল ও প্রজেক্টের কাজ করেন মাস্ক।

যদিও অস্টিনের অভিজাত ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় মাস্ক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির নামে একাধিক ৬ থেকে ৯ হাজার বর্গফুটের বিশাল সুইমিং পুলসহ বিলাসবহুল গেস্ট হাউস রয়েছে, তবে মাস্ক সেগুলোতে না থেকে কাজের সুবিধার্থে এই ৪০০ বর্গফুটের ঘরেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

‘ফ্রিজে খাবার ছিল না, গ্যারেজে ঘুমিয়েছি’: মা মায়ে মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ছেলের এই কৃচ্ছ্রসাধন ও পাগলাটে জীবনযাপন নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তাঁর মা ও প্রখ্যাত মডেল মায়ে মাস্ক (Maye Musk)। চলতি বছর ছেলের টেক্সাসের সেই ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন:

“আমি যখন ইলনের সেই ছোট্ট বাসায় গেলাম, দেখলাম ফ্রিজে কোনো খাবারই ছিল না। ঘরে জায়গা না থাকায় আমি ঘরের পাশের গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলাম। বাথরুমে মাত্র একটি তোয়ালে ছিল, তাই সেটি আমি ইলনের ব্যবহারের জন্যই রেখে দিয়েছিলাম। তবে এতে আমার কোনো কষ্ট বা সমস্যা হয়নি। ছোটবেলায় আমি আমার বাবা-মার সাথে কালাহারি মরুভূমিতে টানা তিন সপ্তাহ কোনো গোসল ও পানি ছাড়া কাটিয়েছি। সম্ভবত আমার বাবা-মা ছোটবেলাতেই আমাকে ইলনের এই ‘বিলাসিতার’ মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন!”

সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও জনসংযোগের কূটনীতি

ইলন মাস্কের এই ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার খবর এবং তাঁর গ্যারেজে থাকার গল্প নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ট্রল শুরু হয়েছে। অনেক এক্স (টুইটার) ব্যবহারকারী মাস্কের সমর্থনে লিখেছেন, “১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও মানুষটা কত সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন! যারা তাঁর সম্পদ নিয়ে সমালোচনা করেন, তারা আসলে ঈর্ষান্বিত।” অন্য একজন মন্তব্য করেন, “তিনি সম্পদের ফুটানি দেখান না। তাঁর সম্পদের ৯৯ শতাংশই কোম্পানির পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির পেছনে খাটে।”

তবে রেডিটসহ (Reddit) বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সমালোচকেরা মাস্কের এই সাধারণ জীবনযাপনের চিত্রকে মূলত একটি গভীর ‘পাবলিক রিলেশনস বা পিআর স্টান্ট’ (PR Stunt) বা জনসাধারণের কাছাকাছি ও মাটির মানুষ হিসেবে নিজেকে সস্তা জনপ্রিয়তায় ধরে রাখার চতুর কৌশল হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাস্তবে মাস্ক বিভিন্ন সেল-কোম্পানির মাধ্যমে শত কোটি টাকার ট্রাস্ট ও সম্পদ আড়ালে নিয়ন্ত্রণ করেন, অথচ ক্যামেরার সামনে নিজেকে একজন সর্বহারা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করতে ভালোবাসেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency