আদালত প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংস ও বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডিত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠা এবং আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ৩ পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার মূল নথি আজ মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে এই নথি উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম মামলার এই পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উচ্চ আদালতে জমা দেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি সুপ্রিম কোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করে আগামী ৩ মাসের মধ্যে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রত্যাশা, আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করা সম্ভব— যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) দিয়ে শুনানি করেন। আশা করি, দেশের উচ্চ আদালত সেই সংবেদনশীলতা দেখাবেন।”
এর আগে গত রোববার (৭ জুন) রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে ঘাতক দম্পতি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
মামলার এজাহার ও চার্জশিটের বিবরণ থেকে জানা যায়, শিশু রামিসা আক্তার পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুঁসলিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। এতে সন্দেহ হলে ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা একজোট হয়ে দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের নিচে রামিসার রক্তাক্ত ও খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান তারা।
উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রী স্বপ্নাকে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন রাতেই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে পালিয়ে যাওয়া মূল ঘাতক স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়।
পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। একই দিনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নিয়ে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মাত্র ৭ দিনের মাথায় গত ৭ জুন আদালত এই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |