অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ক্রমশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই মন্তব্য এলো।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক বাজেট শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মার্কো রুবিও ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো ও ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।
কংগ্রেসের শুনানিতে রুবিও উল্লেখ করেন, মোজতবা খামেনি কেবল জীবিতই নন, বরং ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা দিন দিন বাড়ছে。 চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরের পর দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, মোজতবার এই সক্রিয়তা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে তার নামে প্রচারিত বিভিন্ন লিখিত বার্তা নিয়মিত ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বা হত্যাচেষ্টা এড়াতেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তার এই সীমিত জনসম্মুখ উপস্থিতি। তবে আড়ালে থাকলেও ক্ষমতার পরিধি ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তার নিয়ন্ত্রণ এখন অনেক বেশি স্পষ্ট।
একই শুনানিতে হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। এ ধরনের কোনো সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শর্তসাপেক্ষ। এর জন্য ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি এবং সামগ্রিক পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে।
“সামরিক চাপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণেই প্রথমবারের মতো ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হচ্ছে, যেগুলো আগে সম্পূর্ণ আলোচনার বাইরে ছিল। তবে আলোচনা শুরু হলেও তা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।”
— মার্কো রুবিও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে রুবিও দাবি করেন, ইরানের ওপর চালানো সামরিক অপারেশনটি ‘অত্যন্ত সফল’ ছিল। এর ফলে তেহরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প সক্ষমতা ও সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইরানের নৌ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ইরানের কোনো নৌবাহিনী আর অবশিষ্ট নেই। সেটি এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।” রুবিওর এই মন্তব্য সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের আপসহীন ও কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট সংক্রান্ত এই শুনানির মূল আলোচ্য দ্রুতই ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিশাল আর্থিক ব্যয় এবং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে এই সামরিক সংঘাত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |