| বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোই উচিত হয়নি: বিস্ফোরক মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-05-2026 ইং
  • 7424 বার পঠিত
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোই উচিত হয়নি: বিস্ফোরক মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবির ক্যাপশন: ডোনাল্ড ট্রাম্প

অতীতের মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আবারও এক বিস্ফোরক ও আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো মোটেও উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বিমান হামলা না হলে ইরান এতক্ষণে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হতো।

ফক্স নিউজকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার এবং ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো, যা আপনি সরাসরি কপি-পেস্ট করে আপনার ব্লগ বা পোর্টালে প্রকাশ করতে পারবেন:

 ১. অতীতের যুদ্ধগুলোকে ‘চরম বোকামি’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতের মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মার্কিন নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

  • ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য: ট্রাম্প বলেন, “ইরাকে কী ঘটেছিল তা আপনারা দেখছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছিলাম। আমরা যা করেছিলাম তা ছিল চরম বোকামি। সত্যি বলতে, শুরুতেই আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।”

  • ইরান প্রসঙ্গে ভুলের স্বীকারোক্তি: ইরাকের মতো ইরানের ক্ষেত্রেও মার্কিন হস্তক্ষেপকে ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ইরানেও আমাদের জড়ানো ঠিক হয়নি, তবে ইরানের সেই সক্ষমতা (পরমাণু অস্ত্র তৈরির) রয়েছে।”

২. “বি-২ বোমারু বিমান হামলা না চালালে ইরান পরমাণু অস্ত্র পেয়ে যেত”

নিজের প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী যদি সময়মতো শক্ত পদক্ষেপ না নিত, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটটাই বদলে যেত।

  • নয় মাস আগের গোপন হামলা: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একটি বড় গোপন তথ্য ফাঁস করে দাবি করেন, “নয় মাস আগে আমরা যদি আমাদের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর আঘাত না করতাম, তবে আজ তাদের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকত।”

  • বদলানো দৃশ্যপট: তাঁর দাবি, মার্কিন বিমান হামলার কারণেই ইরান পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে পারেনি, অন্যথায় এতক্ষণে তারা পরমাণু শক্তিধর হয়ে বিশ্বমঞ্চে ভিন্ন এক পরিস্থিতি তৈরি করত।

 ৩. ইরানের সামরিক বাহিনীকে কেন ‘স্পর্শ’ করেনি যুক্তরাষ্ট্র?

ট্রাম্প জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই ইরানের সামগ্রিক সামরিক কাঠামোর বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত ছিল। এর পেছনে তিনি মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেন:

  • সামরিক বাহিনীকে ছাড় দেওয়ার কারণ: ট্রাম্পের মতে, “তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছি। কারণ আমাদের মনে হয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী কিছুটা হলেও চরমপন্থা এড়িয়ে চলে।”

  • নেতৃত্বকে স্তব্ধ করার কৌশল: মার্কিন বাহিনী মূলত ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু তাদের সাধারণ সামরিক বাহিনীকে স্পর্শ করেনি।

  • অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা: এই কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, অতীতের যুদ্ধগুলোতে এমন কিছু ভুল করা হয়েছিল যেখানে সব কিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়; আর তার ফলে এমন একটা দেশের জন্ম হয় যা পরবর্তী ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।

৪. এক নজরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি ম্যাট্রিক্স

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি মূলত "সর্বোচ্চ চাপ" (Maximum Pressure) এবং "কঠোর শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি" কৌশলের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হচ্ছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, মে ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চরম আর্থিক অবরোধ ও সামরিক ব্লকেড বজায় রেখে এক নজিরবিহীন শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। 
এক নজরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া ম্যাট্রিক্স নিচে তুলে ধরা হলো:
ট্রাম্পের নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতির মূল ভিত্তি (মে ২০২৬)
  • কঠোর শর্তের যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্পের প্রধান কৌশল হলো প্রথমে ৬০ দিনের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদী বা জটিল সমস্যাগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য তুলে রাখা। 
  • হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক অস্ত্র "হরমুজ প্রণালী" কোনো প্রকার শুল্ক বা টোল ছাড়া আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে এবং সব মাইন অপসারণ করতে হবে। 
  • পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ ও খনি ধ্বংস: ইরান কখনোই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না এবং ভূগর্ভে লুকানো ইউরেনিয়াম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে। 
  • ফান্ড আটকে রাখা: ইরান তাদের জব্দকৃত বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত চাইলেও, ট্রাম্পের স্পষ্ট নীতি—চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কোনো অর্থ ছাড় করা হবে না। 
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ম্যাট্রিক্স (২০২৬)
পক্ষ / অংশীদার ট্রাম্পের নীতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলপ্রধান প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসন"আমেরিকা ফার্স্ট" এবং ট্রাম্পের নিজস্ব শর্তাবলীর শতভাগ বাস্তবায়ন।হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার স্বার্থরক্ষা না হলে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হবে না।
ইরান (মোস্তবা খামেনি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ)মার্কিন "কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা" ও অত্যধিক দাবির তীব্র বিরোধিতা।ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার মুখের কথায় নয়, কাজের ওপর ভিত্তি করে চুক্তি বিচার করা হবে। ট্রাম্পের শর্তাবলী মূল খসড়া চুক্তির পরিপন্থী এবং এটি আমেরিকার "বানোয়াট বিজয়" প্রদর্শনের চেষ্টা।
ইসরায়েল (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু)মার্কিন সামরিক চাপকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন ও লেবাননে আগ্রাসন বজায় রাখা।ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার টেবিলে থাকলেও ইসরায়েল লেবাননের লিটানি নদী অতিক্রম করে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং ফিলিস্তিন নীতিতে আরও কঠোর হয়েছে।
আরব রাষ্ট্রসমূহ (আব্রাহাম অ্যাকর্ডস জোট)মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা।ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার (আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ) আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তান (মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা)ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শান্তি চুক্তি স্থাপন।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল ২০২৬-এ প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল। মে ২০২৬-এর ওয়াশিংটন বৈঠকেও পাকিস্তান ট্রাম্পের শান্তি কাঠামোর সাথে ইরানকে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এসইও অ্যানালিস্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিতে এক ধরণের ‘নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন’ বা Controlled Aggression কাজ করছে। ট্রাম্প একদিকে জর্জ ডব্লিউ বুশ বা ওবামার আমলের মতো কোনো দেশকে পুরোপুরি ধ্বংস করার বা 'Regime Change'-এর দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, অন্যদিকে নিজের সময়ে বি-২ বোমারু বিমানের মতো অত্যন্ত নিখুঁত ও বিধ্বংসী কৌশলগত হামলা চালিয়ে নিজের শক্তিও প্রদর্শন করছেন। ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে চরমপন্থী না ভেবে তাদের ছাড় দেওয়া এবং শুধু নেতৃত্বকে টার্গেট করার এই নীতি মূলত আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক খরচ কমানো এবং বড় কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ইরানকে চাপে রাখার একটি দূরদর্শী চাল।

অনুমোদিত লেখক:  BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও কনসালটেন্সি এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency