সোমবার, ২৫ মে ২০২৬: ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একদিকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘নিট’ (NEET) প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর তাত্ক্ষণিক পদত্যাগ দাবি, অন্যদিকে আগামী মাত্র এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে বলে এক চরম ভবিষ্যদ্বাণী—এই দুই বিষয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কাঁপন ধরিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
গত রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীর করা এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র পারদ চড়তে শুরু করেছে।
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে মোদি সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ না করছেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে একটি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত কংগ্রেস দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হায়দরাবাদে আন্দোলনরত শত শত শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে রাহুল গান্ধী লেখেন:
"ভারতের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ চরম ঝুঁকির মুখে। লাখ লাখ তরুণ যখন নিজেদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাস্তায় নেমে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন। সরকার মূল সমস্যার কাঠামোগত সমাধানের বদলে স্রেফ দায় এড়ানোর সস্তা পথ খুঁজছে।"
কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিভাগের এক বিশেষ বৈঠকে অত্যন্ত সংবেদনশীল দাবি করেন রাহুল গান্ধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই বর্তমান মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত।
রাহুল গান্ধী তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে প্রধান ৪টি কারণ বা জনরোষের কথা উল্লেখ করেন:
অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও মূল্যস্ফীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি আমজনতার পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
ভয়াবহ কর্মসংস্থান সংকট: দেশের কোটি কোটি শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের কোনো সুরাহা করতে পারেনি বর্তমান ডাবল-ইঞ্জিন সরকার।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক কৌশলগত অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরণের জনমত তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী ও সুসংহত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত, চাকরিপ্রার্থী এবং বিশাল যুবসমাজের মধ্যকার পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে রাজনৈতিক মাইলেজে রূপান্তর করতে চাইছে বিরোধী শিবির।
নিট প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল শিক্ষাগত ইস্যু সরাসরি লাখ লাখ পরিবারের আবেগের সাথে জড়িত। এই আবেগকে পুঁজি করে একদিকে যেমন রাজপথে আন্দোলন তীব্র করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আঞ্চলিক দলগুলো ও বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.)-র ভেতরে এক নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন রাহুল গান্ধী।
বিজেপি বা মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই বড় ভবিষ্যদ্বাণীর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক জোরালো পাল্টা জবাব দেওয়া হয়নি। তবে বিজেপির একাংশের দাবি, বিরোধীদের পায়ের তলায় প্রকৃত জনসমর্থন না থাকায় তারা স্রেফ কিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী বাদল অধিবেশনে এই প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক মন্দা ভারতের সংসদ কাঁপানোর প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে, যার ফ্রন্টলাইনে থাকবেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
রাহুল গান্ধীর মোদি সরকার পতনের ভবিষ্যদ্বাণী, নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি, কংগ্রেসের ছাত্র আন্দোলন এবং ভারতীয় লোকসভার সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির এমন নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিনওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |