ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদলকে সমর্থন করায় সমালোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওসি মোজাফফর হোসাইন
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মোজাফফর হোসাইন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থীদের জন্য একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে তিনি লেখেন—“মেধাবীদের জন্য শুভকামনা রইল। ২১, ১৭, ০৮।”
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো বা প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করা আইনত নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি-১৯৭৯ অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যকলাপ গুরুতর অনিয়মের শামিল। ফলে তার এই পোস্ট ঘিরে ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
কিছু সময় পর তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। পরে আবার নিজ আইডি থেকেই আরেকটি পোস্ট দেন—“আইডিতে শকুনের চোখ পড়েছে। হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তার এমন পোস্ট আইন ও চাকরি বিধির পরিপন্থী। হ্যাকিংয়ের অজুহাত দেখালেও বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।”
জেলা বারের কয়েকজন আইনজীবীও মত দেন, “যদি সত্যিই আইডি হ্যাক হয়, তবে সেটা প্রমাণের দায়িত্ব ওসির। না হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া অনিবার্য।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা সব সময়ই আলোচনায় থাকে। ১৯৭২ সালের সংবিধানেই বলা হয়েছিল প্রশাসনকে হতে হবে নিরপেক্ষ ও পেশাদার। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসন, একাধিক দলীয় পরিবর্তন এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সময়েও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডাকসু নির্বাচন নিজেই বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির বড় মাইলফলক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ক্ষেত্রে ডাকসু কার্যত রাজনৈতিক ইতিহাসের নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে। ফলে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে যে কোনো বিতর্ক সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
২০২৫ সালে যখন শিক্ষাঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি হচ্ছে, তখন একজন থানার ওসির প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান দেখানো শুধু প্রশাসনিক দিক থেকেই নয়, জনআস্থার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ফেসবুকে ছাত্র রাজনীতির প্রার্থীদের সমর্থন জানানো সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন।
হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তুললেও প্রমাণের দায়ভার কর্মকর্তার নিজের ওপরই বর্তায়।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এমন পোস্ট জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাবকেও সামনে আনে।
সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ১৯৭৯ (বাংলাদেশ সরকার প্রকাশনা)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ইতিহাস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভ)
মাঠ পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মন্তব্য
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |