আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ
কলকাতা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু কুরবানি ও পশুবলি নিষিদ্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগে এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নওদার বিধায়ক তথা মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতে বসবাস করতে হলে দেশের আইনি নিয়ম মেনেই চলতে হবে। তা না হলে হুমায়ুন কবীর অন্য কোনো মুসলিম দেশে চলে যেতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবগঠিত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে পশুবলি ও কুরবানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৩ মে (২০২৬) আদালতের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে রাজ্য জুড়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়। এই নির্দেশ জারির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৭ মে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকাশ্যে পশু কুরবানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করায় পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই সরকারি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির শীর্ষ নেতা হুমায়ুন কবীর। সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি দাবি করেন:
"পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশ মুসলিম সমাজ গরুর মাংস খেয়ে থাকেন। যদি ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে কুরবানি বন্ধ করতে হয়, তবে রাজ্যের সব বাণিজ্যিক কসাইখানাও অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। কুরবানি মুসলমানদের একটি প্রাচীন ও অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় প্রথা এবং হঠাৎ করে কোনো এক তরফা প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে তা বন্ধ করা যায় না।"
হুমায়ুন কবীরের এই প্রকাশ্য বক্তব্যের পরপরই কড়া ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হুমায়ুন কবীর যদি পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতে শান্তিতে থাকতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই সরকারের তৈরি করা আইনি নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। যদি দেশের নিয়ম মানতে তাঁর এতই আপত্তি বা কষ্ট থাকে, তবে তিনি যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন; এমনকি অন্য কোনো মুসলিম দেশেও পাড়ি জমাতে পারেন।”
বিজেপি মন্ত্রীর এই ‘দেশ ছাড়ার’ বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের বক্তব্যকে উসকানিমূলক এবং রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ঈদের ঠিক চার দিন আগে এই আইনি ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রাজ্য প্রশাসনের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় (নবান্ন): ১৩ মে, ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত প্রকাশ্যে পশুবলি ও কুরবানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অফিশিয়াল গেজেট ও নির্দেশিকা।
কলকাতা স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রেস ব্রিফিং: ২৩ মে ২০২৬ তারিখে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দেওয়া পাল্টা রাজনৈতিক বিবৃতির অনুলিপি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |