প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও, এই সংকট কিছু বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং ও প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে।
হরমুজ প্রণালি—যা বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে—ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা শুরু হয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে।
বিপি (BP): ব্রিটিশ এই কোম্পানি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ৩২০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে, যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
শেল (Shell): বিশ্লেষকদের সব পূর্বাভাস ছাড়িয়ে তারা ৬৯২ কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করেছে।
টোটালএনার্জিস: ফরাসি এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে ৫৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল ও শেভরনও উচ্চমূল্যের বাজারে তাদের আয়ের ধারা বজায় রেখেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি মানেই শেয়ারবাজারের ওঠানামা, আর এই ওঠানামাই বড় ব্যাংকগুলোর ব্যবসার সুযোগ। ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যাংকগুলো এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের ট্রেডিং থেকে বিপুল অর্থ আয় করছে।
জেপি মরগান: ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের ট্রেডিং বিভাগ ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা ব্যাংকের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় ৬ ব্যাংক: জেপি মরগান, গোল্ডম্যান স্যাকস ও সিটিগ্রুপসহ বড় ছয়টি ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে।
সংঘাত মানেই অস্ত্রের চাহিদা। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তির চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।
লকহিড মার্টিন ও বোয়িং: বিশ্বের এই বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালের শুরুতেই রেকর্ড পরিমাণ অর্ডার পেয়েছে।
বিএই সিস্টেমস: ব্রিটিশ এই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাদের বিক্রয় ও মুনাফা এ বছর অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বিশ্ব রাজনীতির এই সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাব আজ যেমন বাংলাদেশে পড়ছে, তেমনি এদেশের ইতিহাসও শত বছরের রাজনৈতিক বিবর্তনের সাক্ষী।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ—এই অঞ্চলের মানুষ সবসময় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
স্বাধীনতার ডাক (১৯৭১): ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম", বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার শক্তি জুগিয়েছিল।
গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাই (১৯৭৫-১৯৯০): ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত এদেশের রাজনীতি ছিল সংগ্রামমুখর। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরশাসনের।
আধুনিক সময় ও ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৫ সাল ছিল পুনর্গঠনের বছর এবং বর্তমান ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে এবং অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বের ভাষায়, "আমরা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং জনগণের টেকসই অর্থনৈতিক মুক্তি চাই।"
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ বা ১৯৭১ সালের যুদ্ধ—প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করেছে। বর্তমান ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক সংঘাতও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যুদ্ধের সুযোগে নিজেদের সম্পদ বাড়িয়ে চলেছে। এই করপোরেট মুনাফাবাজি বিশ্বজুড়ে এক নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করছে।
সূত্র: ১. বিবিসি (BBC - বৈশ্বিক ব্যবসা ও মুনাফা বিষয়ক তথ্য) ২. দৈনিক যুগান্তর (বর্তমান প্রেক্ষাপট ও মূল প্রতিবেদন সূত্র) ৩. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF - বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রিপোর্ট)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |