প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—প্রতিটি মোড়ই নতুন বার্তার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' অর্জিত হয়েছিল, তার পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচনে এবার 'ঐক্যের সরকার' গঠনের নতুন ফর্মুলা নিয়ে হাজির হয়েছে ১১ দলীয় জোট।
বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি বাঁকেই তরুণ সমাজ ছিল মূল চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক সংস্কারের দ্বার উন্মোচিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনে যারা পরাজিত হবে, তাদের নিয়েও একটি 'ঐক্যের সরকার' গঠন করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আগামীতে নির্বাচিত হলে ১১ দলীয় জোট দেশে একটা ঐক্যের সরকার গঠন করবে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হেরে গেলেও তাদেরকে নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠন করা হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের বাংলাদেশ।" তবে এই ঐক্যের শর্ত হিসেবে তিনি দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করার অঙ্গীকার দাবি করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই যুবক। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "জুলাই সংস্কারের সব শর্ত বাস্তবায়নে আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা আধিপত্য দেখতে চাই না।" তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান বিচারিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি এবং সাধারণ নাগরিকের বিচার হবে একই মানদণ্ডে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা মা-বোনদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি যে পরিবর্তনের সূর্য উঠবে, তা হবে ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। বিশেষ করে কওমি মাদরাসার আলেমদের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় এই সমাবেশে।
একদিকে সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি, অন্যদিকে জোটবদ্ধ হয়ে উন্নয়নের ইশতেহার ও ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব—বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে। ১৯০০ সালে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালে এসে তা রূপান্তরিত হয়েছে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য।
সূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচার সেল, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক গেজেট ও মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিবেদন।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে 'ঐক্যের সরকার' বা 'জাতীয় সরকার' গঠনের ধারণাটি বেশ পুরনো হলেও নির্বাচনের আগেই পরাজিতদের নিয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট বা ১৯৯০-এর তিন জোটের রূপরেখার পর ২০২৬-এর এই ১১ দলীয় জোটের সমঝোতা রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। এটি যেমন বিভাজনের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর হতে পারে, তেমনি জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |