মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট
ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্য একটি সুখবর এসেছে। কলকাতা হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে। এর ফলে, আপাতত তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত তার পক্ষে একটি বড় স্বস্তি, কারণ তিনি আদালতে এই মামলা খারিজের জন্য আবেদন করেছিলেন।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেকের পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র মিলনায়তনে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ওই অনুষ্ঠানে তিনি এমন কিছু উসকানিমূলক মন্তব্য করেন, যা অনেকের মতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য দায়ী। মিঠুন চক্রবর্তী সেই বক্তব্য দিলেও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মিঠুনের মন্তব্যের পর তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর ফলে কলকাতার বউবাজার এবং বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত করতে পারে।
এছাড়া, বউবাজার থানাতেও প্রথম অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয়, মিঠুনের মন্তব্যের কারণে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তবে, মিঠুন চক্রবর্তী এই মামলাগুলোর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে এফআইআর খারিজ করার দাবি করেন।
মিঠুন চক্রবর্তী তার আইনজীবী মাধ্যমে আদালতে জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা অসত্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরপর, কলকাতা হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত মিঠুন চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে আনা আবেদন গ্রহণ করে তদন্ত স্থগিত করার আদেশ দেন। বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী ২০ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এই সিদ্ধান্ত মিঠুন চক্রবর্তী এবং তার আইনজীবীদের জন্য স্বস্তির কারণ। তারা আদালতে আশা করছেন, পরবর্তী শুনানিতে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হবে, এবং এফআইআরটি বাতিল হবে। তবে, সেই সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন। তার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ নিয়ে এই মামলাটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ মামলা তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
এদিকে, কলকাতার রাজনীতিতে এই ঘটনায় তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। মিঠুনের মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা এবং পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তার আবেদন, এই বিষয়ে আরও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এখন, এই মামলার পরবর্তী শুনানি কেমন হতে পারে তা নিয়ে সবার নজর রয়েছে। এটি শুধু মিঠুন চক্রবর্তীর জন্যই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |